| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ কলেজের কয়েকজন…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ ছুটির পর বাড়ি ফিরছিল। রাস্তায় তারা প্রচণ্ড ভিড় দেখল এবং একজন ব্যক্তিকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পেল। তারা দ্রুত লোকটিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
মানুষের বিবেকবোধ, ন্যায়নীতি তথা মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে যেসব বিধিনিষেধের সৃষ্টি হয় সেগুলোর সমষ্টিই হলো নৈতিকতা।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষের এসব মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে বলেই তারা এগুলোকে মেনে চলে।
উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে।
নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
উদ্দীপকের 'ক' নামক কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ ছুটির পর বাড়ি ফিরছিল। রাস্তায় তারা প্রচন্ড ভিড় দেখল এবং একজন ব্যক্তিকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পেল। তারা দ্রুত লোকটিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করল। তাদের এই কাজের মধ্য দিয়ে নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। এ মূল্যবোধ সমাজে মানুষের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করে, মানুষের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে এবং একে অন্যের দুঃখে সাহায্য-সহযোগিতার আদর্শে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। পরিবার, বিদ্যালয়, শিক্ষক, সমাজ প্রভৃতি থেকে মানুষ নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করে থাকে। এ মূল্যবোধই মানুষকে উচিত ও অনুচিত কাজ, দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো ইত্যাদি মূল্যবোধের শিক্ষা প্রদান করে। চিন্তাচেতনা, ন্যায়বোধ, কর্তব্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধের সমন্বয়েই গঠিত হয় ব্যক্তির মূল্যবোধ। এসব মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রত্যেকটি উপাদান ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা স্থাপন করে।
সুনাগরিক সৃষ্টিতে উক্ত বিষয় তথা মূল্যবোধের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
রাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তি যারা রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে তাকে নাগরিক বলা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকল ব্যক্তি রাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু সকল নাগরিক কিন্তু সুনাগরিক নয়। নাগরিকদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান, যারা বিবেকসম্পন্ন এবং যারা আত্মসংযমী তারাই সুনাগরিক। আর সুনাগরিকের এসব গুণাবলি অর্জনের জন্য মূল্যবোধের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল্যবোধ এমন একটি বিষয় যার মূল্য সমাজ কর্তৃক দেওয়া হয়ে থাকে। আর মূল্যবোধের মূল উপাদান হলো নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, শৃঙ্খলাবোধ, সহমর্মিতা, সহনশীলতা প্রভৃতি। এসব উপাদানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির কী করা উচিত, কী করা উচিত নয় ইত্যাদি শিক্ষা লাভ সম্পন্ন হয়। সমাজে ন্যায়বিচার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা তৈরি হয় মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী ও কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে, যা মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। আমরা জানি, অধিকার ও কর্তব্য সচেতন নাগরিককে সুনাগরিক বলা হয়। রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, প্রচলিত আইন মেনে চলা, নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি কর্তব্য একজন সুনাগরিক পালন করে থাকে। এরূপ নাগরিক সচেতনতা আর কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়া মূল্যবোধ নাগরিকের মাঝে সহনশীলতা ও সহমর্মিতার মতো গুণাবলি জাগ্রত করে, যা সুনাগরিক হওয়ার জন্য অপরিহার্য।
সুতরাং আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সুনাগরিক সৃষ্টিতে মূল্যবোধের বিভিন্ন উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক।