| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ক → এমন…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

ক → এমন একটি সংগঠন যা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়।
খ → রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত সদস্যদের দ্বারা গঠিত সংগঠন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
'Civitas' শব্দের অর্থ হলো নগররাষ্ট্র।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইন বিভাগ বিভিন্ন সাংবিধানিক উপায়ে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে আইনসভার সদস্যরা মন্ত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, নিন্দা প্রস্তাব বা মূলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারের কাজের তদারকি করেন। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো অনাস্থা প্রস্তাব, যার মাধ্যমে আইন বিভাগ শাসন বিভাগ বা সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারে।
উদ্দীপকের 'ক' সংগঠনটি এমন একটি সংগঠন যা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, যা রাজনৈতিক দলকে এবং 'খ' সংগঠনটি রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত সদস্যদের দ্বারা গঠিত সংগঠন, যা উপদলকে নির্দেশ করছে। এদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।
রাজনৈতিক দল হলো একই আদর্শে বিশ্বাসী একটি বৃহত্তর গোষ্ঠী যারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। অন্যদিকে, উপদল হলো একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে গঠিত ছোট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।
রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থরক্ষা ও দেশ পরিচালনা করা, কিন্তু উপদলের লক্ষ্য গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থ উদ্ধার করা। রাজনৈতিক দল একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা, যেখানে উপদল দলের অভ্যন্তরে গঠিত একটি খণ্ডিত রূপ মাত্র। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল সুনির্দিষ্ট আদর্শ নিয়ে দীর্ঘকাল টিকে থাকে, কিন্তু উপদল স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলে বা ব্যর্থ হলে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
উদ্দীপকের 'ক' সংগঠনটি হলো রাজনৈতিক দল, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি হিসেবে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল ছাড়া রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনগণের অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব। তারা মূলত প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে 'ক' অর্থাৎ রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনা করে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল জনমতকে সংগঠিত করে সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়। নির্বাচনে পরাজিত রাজনৈতিক দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব রোধ করে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। কর্মসূচি প্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল জনগণকে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলে।
তাই পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক দল কেবল ক্ষমতা দখলের মাধ্যম নয়, বরং এটি জনস্বার্থ রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম চালিকাশক্তি। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।