| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ জনগোষ্ঠী একই…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৫ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ জনগোষ্ঠী একই ভূখণ্ড, ভাষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, রীতিনীতি, অভিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষার অধিকারী। কিন্তু তারা বিদেশি শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শাসক গোষ্ঠীর শাসন ও বৈষম্যের কারণে ‘ক’ জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ঐক্যবোধের জন্ম নেয়। তারা রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত হয়। নানা আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
সাধারণ অর্থে নৈতিকতা হলো নীতিমূলক, নীতি সম্বন্ধীয়। অর্থাৎ কথাবার্তা, আচার-আচরণে নীতির অনুসরণ করাই হলো নৈতিকতা।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষের এসব মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে বলেই তারা এগুলোকে মেনে চলে।
'ক' জনগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্যবোধের সাথে আমার পাঠ্যভুক্ত স্বাধীনতা বিষয়ের মিল রয়েছে।
স্বাধীনতা বলতে বোঝায় অপরের কাজে বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ সম্পাদন করার অধিকারকে। এটি সভ্য সমাজের অপরিহার্য উপাদান। এটি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র উন্নতি লাভ করতে পারে না। উদ্দীপকের 'চ' জনগোষ্ঠী একই ভূখন্ড, ভাষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও অভিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষার অধিকারী। বিদেশি শক্তির স্বৈরশাসন ও নিপীড়ন তাদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ঐক্যবোধের জন্ম দেয় এবং তারা অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার জন্যই তাদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল। স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত ও সামাজিক অধিকার। স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। স্বাধীনতা বলতে আমরা সেই অবস্থাকে বুঝতে পারি, যা বিভিন্ন অনুকূলে সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক কার্যাবলির মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং অনুরূপ কার্যাবলি সম্পাদন অন্যের ওপর কোনো প্রতিবন্ধকতা চাপিয়ে দেয় না। স্বাধীনতা মানুষের চির আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।
তাই স্বাধীনতা লাভের জন্যই স্বাধীনতাকামী মানবজাতি যুগে যুগে আন্দোলন করেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো স্বাধীনতা যার সাথে সাম্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সাম্য বলতে মানুষের পূর্ণতাপ্রাপ্তি এবং সমান অধিকার সংরক্ষণ করাকে বোঝায়। আর স্বাধীনতা হলো অন্যের সমস্যা সৃষ্টি না করে নিজের অধিকার ভোগ করার ক্ষমতা। এরা একে অপরের সহযোগী ও সম্পূরক। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' জনগোষ্ঠী বিদেশি শক্তি দ্বারা নিপীড়িত হওয়ায় তাদের মাঝে স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ঐক্যবোধের জন্ম হয় এবং তারা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়। স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষাই তাদেরকে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র লাভ করতে সহায়তা করে। এর সাথে সাম্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। এরা একে অন্যের পরিপূরক। একটি রাষ্ট্রে যত সাম্য থাকবে, সে রাষ্ট্রে তত স্বাধীনতা থাকবে। তাই এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেমন সাম্যের দরকার তেমনি স্বাধীনতারও দরকার হয়। এরা উভয়ই গণতন্ত্রের ভিত্তি। এদের সহাবস্থান জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণের নিশ্চয়তা দেয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীনতা ও সাম্য অখণ্ড ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যে সমাজে স্বাধীনতা থাকে না, সে সমাজে সাম্য থাকে না। একটির অনুপস্থিতিতে অন্যটি অর্থহীন হয়ে পড়ে। সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা রক্ষা করা যায় না। সাম্য না থাকলে স্বাধীনতা নামসর্বম্বে পরিণত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পরের পরিপূরক ও সহায়ক। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা জাতীয় স্বাধীনতা না থাকলে সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন করা যায় না। আবার সাম্যের নিশ্চয়তা না থাকলে প্রকৃত প্রস্তাবে কোনো স্বাধীনতা থাকে না। তাই এরা একটি অন্যটি ছাড়া অচল।