| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ নামক রাষ্ট্রটি…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ নামক রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন ধরে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন একজন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা নিজ সম্প্রদায়ের জন্য অধ্যুষিত সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে গঠিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব 'গ' কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবটির সাথে আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের লাহোরে মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অধিবেশনে বাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক ভারতের মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র বাসভূমি/রাষ্ট্র গঠনের দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবই 'ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত। উক্ত প্রস্তাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারতের অঞ্চলগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং শাসন সংক্রান্ত অধিকার রক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়। এ প্রস্তাব গ্রহণের পর ভারতের মুসলিম রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি হয় এবং মুসলমানদের মধ্যে নবজাগরণের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ প্রস্তাব 'পাকিস্তান প্রস্তাব' নামে পরিচিতি লাভ করে।
উদ্দীপকের 'গ' একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কথা চিন্তা করে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন। তাঁর এই প্রস্তাব সেই শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়।
হ্যাঁ, উক্ত প্রস্তাব তথা লাহোর প্রস্তাব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছিল।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের আলোকে ১৯৪৭সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সাধারণত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঙ্গরাজ্যগুলো পাকিস্তান এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঙ্গরাজ্যগুলো ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে একটি পূর্ব পাকিস্তান, অন্যটি পশ্চিম পাকিস্তান নামে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু বিভক্তির পর রাষ্ট্রটি নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়।
১৯৪০ সালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের মূল দাবিই ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই মুসলিম লীগ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বারা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিগৃহীত ও শোষিত হতে থাকে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই দেশটির রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। ফলশ্রুতিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধের চেতনায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো মিলিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা আরো দৃঢ় এবং সুসংহত হয়। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানও লাহোর প্রস্তাবের আলোকে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। কারণ ৬ দফার প্রথম দফাই ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন করা তথা স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা। পরবর্তীকালে ৬ দফাকে ভিত্তি করে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। আর এভাবেই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবে উত্থাপিত স্বায়ত্তশাসনের দাবি পরবর্তীতে স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।