| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ নামক রাষ্ট্রটিতে…’ আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০২৬ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ নামক রাষ্ট্রটিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
যে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তা-ই প্রজাতন্ত্র।
যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দুই এর অধিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম দেখা যায়, তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে।
বহুদলীয় ব্যবস্থায় প্রতিটি দল নিজ নিজ দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। যে দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, সেই দল সরকার গঠন করে। ভারত, পাকিস্তান, ইতালি, ফ্রান্স এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। বহুদলীয় ব্যবস্থায় সমাজের বিভিন্নমুখী চিন্তাধারা সহজে প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রটিতে 'সুশাসন' এর অভাব পরিলক্ষিত হয়।
সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। সুশাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিমুক্ত হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়। এটি একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক 'উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার নির্বাচিত হলেও সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সুশাসনের মূল স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, যা না থাকলে গণতান্ত্রিক সরকারও জনকল্যাণে ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকের এই নেতিবাচক পরিস্থিতিগলো স্পষ্ট করে যে 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের চরম অভাব রয়েছে।
উদ্দীপকের 'ক' নামক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।'
সুশাসন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। একটি রাষ্ট্রে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, তখন সম্পদের সঠিক বণ্টন ঘটে এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়। সুশাসন নিশ্চিত হলে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে বর্তমানে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও সেখানে গণতন্ত্র বিদ্যমান, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে জনগণ গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না। এই অবস্থায় যদি সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা যায় এবং কর্মকর্তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবেই অরাজকতা ও দুর্নীতি দূর হবে।
পরিশেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন সংবাদপত্রের মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার সুযোগ থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের কাঙ্ক্ষিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।