| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ অঞ্চলের জনগণ…’ ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ – জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ অঞ্চলের জনগণ শহর থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। তারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মোটেও অবগত নন। ‘খ’ অঞ্চলের জনমত রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তারা’ সরকারি সিদ্ধান্তসমূহের দিকে লক্ষ রাখে এবং সরকারের নিকট দাবি উত্থাপন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
জনমত হলো কল্যাণধর্মী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক ও সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম
যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রত্যক নাগরিক রাজনৈতিক বিষয়ে সক্রিয় ও উদ্যোমী ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে তাকে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতিক বলে। এখানে ব্যক্তিমাত্রই তার অধিকার, ক্ষমতা ও কর্তব্য সম্পর্কে সতত সচেতন থাকে। এ ধরনের সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণের ব্যাপারে সক্রিয় হতে পারে, আবার অনুরূপভাবে আমূল পরিবর্তনের ব্যাপারে উদ্যোগী হতে পারে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি অঞ্চলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকৃতি ভিন্ন। তন্মধ্যে 'ক' অঞ্চলের জনগণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং 'খ' অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বর্তমান রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনধারা এবং জাতীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দেশবাসীর প্রবল অনীহার কারণে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি সৃষ্টি হয় তাকে সংকীর্ণতাবদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে। আবার, যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রত্যেক নাগরিকের সক্রিয়, সচেতন ও উদ্যোগী ভূমিকা থাকে তাকে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে। 'ক' অঞ্চলের রাজজনৈতিক সংস্কৃতিতে নাগরিকরা রাজনীতির প্রশ্নে অসচেতন ও অনাগ্রহী থাকে। অপরদিকে 'খ' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি জনগণের অংশগ্রহণে সক্রিয় ও সচেতনতায় ভরপুর। 'ক' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে ব্যক্তি উদাসীন থাকে, যেখানে 'খ' অঞ্চলের নাগরিকেরা তাদের অধিকার, কর্তব্য ও ক্ষমতা সচেতনভাবে তা আদায় করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি অঞ্চলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে অবশ্যই দ্বিতীয় অর্থাৎ 'খ' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাম্য। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'ক' অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো: সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং 'খ' অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। 'ক' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে জানা যায়, উক্ত অঞ্চলের মানুষেরা রাজনৈতিকভাবে উদাসীন ও অসচেতন। এদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কার্যত নির্জীব এবং সেকেলে। অপরদিকে, 'খ' অঞ্চলের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বিদ্যমান। তাঁরা সরকারি সিদ্ধান্তসমূহের প্রতি লক্ষ রাখে এবং সরকারের নিকট দাবি উত্থাপন করে। এর দ্বারা বোঝা যায়, উক্ত সংস্কৃতিটি সক্রিয়, যার মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপস্থিতি রয়েছে এবং অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম রয়েছে। বর্তমান যুগের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে 'খ' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উত্তম। কেননা, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনাগ্রহ ও অসচেতনতা গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে ও রাজনীতিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতি সৃষ্টি হয়, যেখানে কেবল শাসক তার নিজস্ব ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। অপরদিকে, অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো গণতন্ত্রের কাঙিক্ষত রূপ। এখানে জনগণের ব্যাপক ও সক্রিয় অংশগ্রহণে রাজনীতি হয়ে উঠে সত্যিকারের রাষ্ট্র কাঠামো যেখানে জনগণও সরকারের মিলিত উদ্যোগের সম্মিলন ঘটে। এতেই প্রকৃতার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থকতা নিহিত থাকে। তাই পরিশেষে বলা যায়, অবশ্যই 'খ' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাম্য।