| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ক-অংশ যুবকের বুকে…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৪ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ক-অংশ
যুবকের বুকে নিয়ে বুলেটের অংশ
পড়িল মাটির পরে
ফোঁটায় ফোঁটায় লহুধারা
রাজপথে বিছাইল রক্ত জবা ফুল ।
শেষ নিশ্বাসের আগে তারা
গেয়ে গেল রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই ।
খ- অংশ
তোমাদের রক্তঋণ, অম্লান আহুতি
বেঁকে যাওয়া আমাদের মেরুদণ্ড
টান টান সোজা করে উদ্যত দাঁড়াতে
দরকারি ক্রোধ, প্রেম প্রকাশ, শক্তি দেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুকে পেতে দেয় বরকত।
প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে কবি বিরুদ্ধ চেতনার আস্ফালনকে বুঝিয়েছেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই মূলত বাঙালি একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঙালির প্রতিষ্ঠালাভের পিছনে ভাষা আন্দোলন এবং ভাষাশহিদদের অবদান তাই অনস্বীকার্য। এ কারণে আলোচ্য কবিতাটিতে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে কৃষ্ণচূড়া ফুলকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর এ চেতনার বিরুদ্ধ শক্তিকেই কবি বিপরীত রং হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । প্রশ্নোক্ত পক্তিটিতে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের ক অংশে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বর্ণিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও সংগ্রাম ভাষাসৈনিকদের আত্ম-বিসর্জনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পথে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ১৯৬৯ সালে জাতিগত শোষণ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। প্রত্যন্ত গ্রাম, হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় রাজপথে। ফলে শোষণের বিরুদ্ধে প্রবল গণজাগরণের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের ক অংশে বর্ণিত হয়েছে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিলে গুলিবর্ষণ করলে শহিদ হন বাংলার ছেলেরা। কবি তাদের রক্তস্নাত মাটিকে রক্তজবার সাথে তুলনা করেছেন। শেষ নিশ্বাস ত্যাগের আগ পর্যন্ত তাঁরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে যান । আলোচ্য কবিতায়ও দেখা যায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে এ দেশের সাহসী সন্তানেরা ভাষার দাবিতে রাজপথে নেমে নির্ভীকচিত্তে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে । এই বিষয়টিই উদ্দীপকের ক অংশে বর্ণিত হয়েছে ।
“উদ্দীপকের খ অংশে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার বায়ান্নর শহিদরাই উনসত্তরের চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছিল ।”— মন্তব্যটি যথার্থ । দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে এ কবিতায়। মুক্তিসংগ্রামের প্রথম সোপান ভাষা আন্দোলনে প্রথমবারের মতো রক্ত ঝরিয়েছে এ দেশের তরুণ জনতা। আর এভাবেই বাঙালিদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন চেতনার। বাঙালির পরবর্তী সময়ের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামকে শক্তিদান করার পিছনে রয়েছে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ । পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন শোষণের কবলে থেকে বাঙালি জাতি নির্যাতিত হতে হতে তাদের মেরুদণ্ড যেন বেঁকে গিয়েছে। এই মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর জন্য প্রয়োজন সাহস, শক্তি, ক্রোধ যা আন্দোলনকে বেগবান করতে সহযোগিতা করে। আর এই শক্তির যোগান দিয়ে গেছেন যাঁরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁরাই ।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বাঙালির সংগ্রামী চেতনা ও গভীর স্বদেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। এ কবিতায় বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে রেহাই পেতে এ দেশের মানুষের প্রতিবাদী মনোভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে। যার প্রতিফলন দেখা যায় ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। এই গণজাগরণের পিছনে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে প্রাপ্ত জাতীয়তাবাদী চেতনাকে প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে। অপরদিকে, উদ্দীপকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শোষণ-নিপীড়ন ও অত্যাচারে জর্জরিত মানুষকে মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয় ভাষা আন্দোলন তথা ভাষা শহিদগণ, যা ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও লক্ষ করা যায়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি উদ্দীপকের খ-অংশ ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার আলোকে যথার্থ।