| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রে প্রদেশ…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রে প্রদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রদেশগুলোর কোনো স্বাধীনতা নেই। কিন্তু ‘খ’ রাষ্ট্রের প্রদেশগুলো সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
আইন ফারসি ভাষার শব্দ।
পৌরনীতিতে সাম্যের অর্থ হচ্ছে সুযোগ-সুবিধাদির সমতা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থাকেই সাম্য বলে। অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্য অর্থ-১. বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি, ২. যথার্থ ও যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং ৩. বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও দ্রব্যের সমভাবে বণ্টন। সুতরাং সাম্য বলতে আমরা এমন এক পরিবেশকে বুঝি, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য সমান অনুকূল সুযোগ-সুবিধা পায়।
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রে যথাক্রমে এককেন্দ্রিক এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। ক্ষমতা বণ্টননীতির ভিত্তিতে এ দুই সরকারব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় শাসনকার্যের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় সরকার কিছু ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্থানীয় সংস্থা ও আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের কাজে অর্পণ করে। তবে স্থানীয় শাসনকগণ তাদের কাজের জন্য কেন্দ্রের নিকট দায়বদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয় এবং উভয়ই স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থাকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা অভিন্ন আইনের দ্বারা অখণ্ড নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয় বিধায় শাসনকার্যে দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। পক্ষান্তরে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় দুটি সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি ও আলাদা নীতির কারণে শাসনব্যবস্থা দুর্বল প্রকৃতির হয়ে থাকে। তাছাড়া এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় হয়ে তাকে। অন্যদিকে, ক্ষমতার বিভাজন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতিতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকে। এককেন্দ্রিক সরকার যেহেতু একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়, সেহেতু এ সরকার সিদ্ধান্ত দ্রুত, সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত হয়। অধিকন্তু এককেন্দ্রিক সরকার কম ব্যয়বহুল ও জরুরি অবস্থায় সহায়ক।
সুতরাং এককেন্দ্রিক সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ভিন্ন দুটি সরকারব্যবস্থা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে উভয় সরকারের পার্থক্যের দেয়াল দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
উদ্দীপকের 'খ' নির্দেশিত সরকার তথা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার বেশকিছু শর্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সাংবিধানিকভাবে স্পষ্ট করে ক্ষমতার বণ্টন। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার হুমকিতে পড়তে বাধ্য। এছাড়া নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রীয় মনোভাবের উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে অনুধাবন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং নিজের অস্তিত্ব বিলীন না করে স্বকীয়তা বজায় রাখার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র সফল হতে পারে। ভৌগোলিক নৈকট্য যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রদেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে তাদের ভৌগোলিক নৈকট্য একান্ত প্রয়োজন। আবার, ভাষা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐক্য নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। ফলে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়। এরূপ ঐক্য যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার সফল হতে ভূমিকা রাখে। অনেকেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার শর্ত হিসেবে মত প্রকাশ করেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যেহেতু সংবিধানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে তাই এর সফলতার জন্য সংবিধানের প্রাধান্য অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া সৎ ও সুযোগ্য নেতৃত্ব, সুস্থ দলব্যবস্থা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, উপযুক্ত শিক্ষার বিস্তার ও রাজনৈতিক চেতনা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে সফল করে তোলে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সাফল্যের পশ্চাতে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সুশিক্ষিত, সচেতন, দায়িত্বশীল নাগরিক এবং তাদের যথাযথ পরিচালনা করার জন্য সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব।