| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রে সকল…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৫ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রে সকল নাগরিক স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। এ রাষ্ট্রে মত প্রকাশের অধিকার, সভা -সমিতি করার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু ‘খ’ রাষ্ট্রের নাগরিকগণ এসব অধিকার ভোগ করবেন না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
আইনের দ্বারা স্বীকৃত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে কর্তব্য বলে।
রাষ্ট্র পরিচালনা এবং শাসনকার্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ করার অধিকার কে রাজনৈতিক অধিকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক সরকারের মূল ভিত্তি হিসেবে রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃত হয়। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতির রাজনৈতিক অধিকারের কর্তব্য। রাজনৈতিক অধিকার মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকের 'ক' লাস্টের নাগরিকগণ আইনগত অধিকার ভোগ করবেন।
নাগরিকের অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। এগুলো হলো - নৈতিক অধিকার ও আইনগত অধিকার। নৈতিক অধিকার বলতে আমরা যেসব অধিকারকে বুঝি যা মানুষের বিচারবুদ্ধি ও নৈতিকতা থেকে উদ্ভূত। আর আইনগত অধিকার বলতে ব্যক্তির সে অধিকারকে বোঝায় যার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, অনুমোদিত এবং সংরক্ষিত। আইনগত অধিকারের পেছনে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব। রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী আইনগত অধিকার ভঙ্গকারীকে শাস্তি দেওয়া যায়। জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, সভা-সমিতি করার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অধিকার ইত্যাদি আইনগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্র আইনগত অধিকারের উৎস।
উদ্দীপকে দেখা যায় 'ক' রাষ্ট্রের নাগরিকরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এবং এ রাষ্ট্রে মত প্রকাশের অধিকার, সভাসমিতির করার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত যা নাগরিকের আইনগত অধিকারের বিষয়গুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের নাগরিকগণ রাষ্ট্রের আইনগত অধিকার ভোগ করবেন।
উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রের নাগরিকরা যে অধিকার হতে বঞ্চিত তা হলো নাগরিকের আইনগত অধিকার। নাগরিকের এসব আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমার সুপারিশ সমুহ নিচে আলোচনা করা হলো -
নাগরিকের ব্যক্তিত্ব ও জীবনকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করার জন্য কি নাম করা আইনগত অধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকের এসব আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় কতকগুলো বিষয় রক্ষাকবচের ন্যায় কাজ করে। রক্ষাকবচগুলোর মধ্যে আইনের শাসন অন্যতম। আইন মানুষের ব্যাহিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেখানে রাষ্ট্রেই নাগরিকের যেকোনো অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম যে বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তাই উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রে আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র হলো আইনগত অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ। 'খ' রাষ্ট্রে আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে তাই প্রথমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল দেশের সংবিধানেই নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত থাকে। এতে নাগরিক অধিকারগুলো সাংবিধানিক আইনের মর্যাদা লাভ করে এবং কোন নাগরিক তাদের আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত হয় না। উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রে আইনগত অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য 'খ' রাষ্ট্রের সংবিধানে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কার্যকরী হাতিয়ার হলো নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো সঠিকভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রের নাগরিকদের আইনগত অধিকার সমূহ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।