| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রে সরকারপ্রধানসহ…’ রাজশাহী কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রে সরকারপ্রধানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয়। অন্যদিকে ‘খ’ রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ হতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। ফলে শাসন বিভাগকে তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে হয় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ববোধ ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে সরকারের অন্য বিভাগের (আইন ও শাসন বিভাগ) হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে, বিচারকার্য সম্পন্ন করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অর্থ হলো মূলত কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে বিচারকদের স্বাধীনতা। বিচারকরা যখন রায় প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত থাকবেন, তখনই বিচার বিভাগের সত্যিকার স্বাধীনতা রক্ষিত হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নাগরিক স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।
জনাব 'ক'-এর রাষ্ট্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বলে। এ সরকার ব্যবস্থা জনমতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং জনসাধারণের প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় বিজয়ী দলের আস্থাভাজন নেতাকে রাষ্ট্রপ্রধান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিপরিষদের হাতে শাসন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে এবং মন্ত্রিপরিষদ নিজেদের যাবতীয় কাজ ও নীতি নির্ধারণের জন্য আইন পরিষদের কাছে দায়ী থাকে। এ সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত শাসক হিসেবে স্বীকৃত হন। সংসদীয় সরকারের স্থায়িত্ব আইনসভার আস্থা-অনাস্থার ওপর নির্ভর করে। আইনসভা যদি সরকারের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করে তাহলে এ সরকারের পতন অনিবার্য।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আইনসভার আস্থা অর্জন করায় রাষ্ট্রপ্রধান জনাব 'ক'-কে সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। 'ক' তার আস্থাভাজনদের মন্ত্রিপরিষদে নিয়োগ দিয়ে কেবিনেট গঠন করেন এবং তার সরকারকে আইনসভায় জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আইনসভার অনাস্থায় 'ক'-এর সরকারের পতন ঘটে। পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, এ বিষয়গুলো সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থারই বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, জনাব 'ক'-এর রাষ্ট্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি, 'ক' রাষ্ট্রের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার চেয়ে উত্তম।
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে এবং শাসন বিভাগ আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে | বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ আইনসভার নিকট দায়ী থাকে না, যা অনেক সময় স্বৈরাচারী শাসনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ হতে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কোনো জবাবদিহিতা নেই, যা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য। এর ফলে সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ থাকে। কিন্তু 'ক' রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা থাকায় সরকার জনমতকে উপেক্ষা করতে পারে না। আইনসভার নিকট দায়ী থাকার কারণে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার নিয়মতান্ত্রিক থাকে এবং তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করে।
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সমালোচনা ও আইনসভার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় বলে সরকার সতর্ক থাকে। এটি অধিকতর গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার অভাবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিচারে 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের চেয়ে উত্তম।