| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রের বিচার…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামো, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ হতে পৃথক। কিন্তু নিম্ন আদালতের বিচারকরা সরকারের আজ্ঞাবহ। বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিসহ সবকিছুই মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত। বিচার বিভাগের জন্য আলাদা কোনো সচিবালয় নেই। বিচারকরাও তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন বিধিবিধানের আলোকে সরাসরি যেসব প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো কে বোঝায়।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকার তথা নির্বাহী বিভাগ কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না এরা স্বাধীনভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে। এই সংস্থাগুলোর সভাপতি ও সদস্যগণ নির্দিষ্ট মেয়াদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশন, এটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য শর্ত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এই বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যে বিষয়গুলো আবশ্যক উদ্দীপকের বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সেগুলো অনুপস্থিত। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের নিম্ন আদালতের বিচারকরা সরকারের আজ্ঞাবহ, এদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিসহ সবকিছুই মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত। এ খানের বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। অথচ স্বাধীন বিচারবিভাগ সুষ্ঠুভাবে সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিরপেক্ষভাবে ন্যায় বিচার করতে পারে। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও অন্যান্য শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে বিচারকার্য সম্পাদন করাই হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। স্বাধীন বিচার বিভাগের বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির অনুমতি ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে না। তবে বিচারকগণ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারবেন। বিচারকগণের বদলি পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মতামতই কার্যকর করা হয়। স্বাধীন বিচার বিভাগের এই বিষয়গুলো 'ক' রাষ্ট্রের বিচারবিভাগে নেই। তাই 'ক' রাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলা যায় না।
উদ্দীপকের দেশের বিচার বিভাগের সাথে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কিছু মিল থাকলেও যথেষ্ট পার্থক্যও রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের একটি বিভাগ হিসেবে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করছে। 'ক' রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হলেও অন্যান্য বিষয়গুলো বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশে আইনের বিধান অনুযায়ী অধস্তন আদালত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি এসব আদালতের বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ করে। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশ ক্রমে জেলা বিচারক নিয়োগ প্রদান করেন। বিচার বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও অন্যান্য বিষয়ে শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত। বাংলাদেশে 'ক' রাষ্ট্রের ন্যায় বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় না থাকলেও বিচারকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণপূর্বক যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও করণীয় নির্ধারণ করে থাকে। তারা অন্যায়ের শাস্তিবিধান এবং নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায় ও অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করেন। বিচারবিভাগ আইনের ব্যাখ্যা প্রকৃত অর্থ ও কার্যকারিতা নির্ধারণ এবং আইনকে ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োগ করে থাকে। আর এভাবে এটি নাগরিকের অধিকারও স্বাধীনতা সংরক্ষণে সদা তৎপর থাকে।
উপর্যুক্ত আলোচনায় দেখা যায় 'ক' রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অপেক্ষা বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অধিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য সম্পাদন করছে।