| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রের জনগণ…’ সিলেট সরকারি কলেজ ২০২৫ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রের জনগণ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি প্রদান ও বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার সংরক্ষণ করেন। ফলে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও জীবনে পূর্ণতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
"যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না"- জন লক বলেছেন।
সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সাম্য নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনতার প্রয়োজন। স্বাধীনতার শর্তপূরণ না হলে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর স্বাধীনতাকে ভোগ করতে চাইলে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাম্য ও স্বাধীনতা একই সাথে বিরাজ না করলে গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করার প্রশ্নই ওঠে না। এ কারণেই "সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন।"
'ক' রাষ্ট্রের জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করেছেন। অর্থনৈতিক জীবনে মানুষের স্বাধীন থাকার অধিকার হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। অভাব-অনটন, বেকারত্ব এবং কর্ম থেকে ছাঁটাইয়ের ভয় থেকে মুক্ত থাকা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার উদাহরণ। অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত মজুরি পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় করে। নাগরিকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত পরিবেশ প্রাপ্তি ও অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তাই হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা ব্যতীত মানুষ স্বচ্ছভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে না।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে দেখা যায়, জনগণের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি প্রদান ও বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার সংরক্ষণ করেন। এরূপ সুযোগ-সুবিধা মূলত অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত যেসব স্বাধীনতা মানুষ ভোগ করে তাই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতা অর্থাৎ 'অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে'- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বাধীনতা বলতে আমরা সেই অবস্থাকে বোঝাতে পারি, যা বিভিন্ন অনুকূল সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক কার্যাবলির মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্বাধীনতার বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধরন হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের বর্ণনায় নাগরিকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে মানুষের সচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য এ স্বাধীনতা থাকা অপরিহার্য। আর রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করার স্বাধীনতাকে বলা হয় রাজনৈতিক স্বাধীনতা। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত মানুষের, ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়। আবার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। কেননা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে মানুষ রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগে আনন্দ পায় না। আবার অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা না থাকলে ভোটদান, মতামত প্রকাশ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কিংবা সরকারি চাকরি লাভের মতো রাজনৈতিক অধিকারগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে। এ কারণেই বলা হয় যে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, 'ক্ষুধার রাজ্যে কবিতা গদ্যময়' অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। কারণ, এক্ষেত্রে স্বাধীনতার কোনো মূল্য থাকে না।