| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রের নাগরিকদের…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, দেশপ্রেম পরিলক্ষিত হয়। উক্ত দেশের আইনসভায় সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিরোধীদল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতাও করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস ছয়টি।
স্বাধীনতা হচ্ছে নিজের কাজ নিজের মতো করে করা, যেখানে কেউ কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা শব্দটি একটু অন্য অর্থে ব্যবহার করা হয়। পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা বলতে অপরের কাজে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকারকে বোঝায়। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন এক পরিবেশ যেখানে ব্যক্তি কোনো প্রকার বাধাবিপত্তি ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকাশের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষের এসব মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে বলেই তারা এগুলোকে মেনে চলে।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। উক্ত দেশের আইনসভার সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিরোধীদল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করে। এ ধরনের মূল্যবোধ লালনের ফলে উক্ত দেশে ক্রমশ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। উদ্দীপকের এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। কারণ এখানে যেসব গুণাবলির কথা বলা হয়েছে তা সবই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সম্পৃক্ত। আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলতে গণতন্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত কতকগুলো নীতি, আদর্শ ও আচরণ বিধিকে নির্দেশ করে যেগুলো গণতন্ত্রকামী জনগণ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক হয়। এসব বিবেচনায় বলা মায়, উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুশাসনের ভিত্তিস্বরূপ। কারণ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সর্বাধিক জনকল্যাণমুখী এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকারব্যবস্থা পরিচালিত হয়। গণতন্ত্রে জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। কারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী সমাজ, সরকার সার্বিকভাবে রাষ্ট্রে সুশাসন ও তার বাস্তবায়ন ঘটায়। উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব সর্বাধিক। কারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যদি রাষ্ট্রের সকল স্তরে বাস্তবায়িত হয় তবে সুশাসন এমনিতেই প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা ব্যতীত সুশাসনের আশা করাও ভুল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই আইনের নিকট সমান মর্যাদা লাভ করে। শাসক তার ইচ্ছা অনুযায়ী আইন ব্যবহার করতে পারে না, বরং আইন তার আপন গতিতে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে সরকারের কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ থাকে, অপরাধীর আত্মসমর্পণের সুযোগ থাকে। অর্থাৎ আইনের শাসন সমাজ বা রাষ্ট্রের মন্দ শাসনকে প্রতিহত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকারের মর্যাদা দান করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে নাগরিককে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়, কারণ গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সরকার। এজন্য গণতান্ত্রিক সরকার নাগরিকের কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সুশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন তাই যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজে
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠা লাভ করে যখন সেখানে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা লাভ করে, ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। আর এসব কিছু প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করা।