| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান…’ নটরডেম কলেজ ২০২৫ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তিনি আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি নিজের ইচ্ছানুযায়ী বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
আইনের দ্বারা স্বীকৃত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে কর্তব্য বলে।
শাসন বিভাগের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অন্য রাষ্ট্রের আক্রমণ থেকে নিজ দেশকে রক্ষা করা।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান।
আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সরকারকে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। তিনি আইনসভার সদস্য নন এবং সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ আইন বিভাগের কাছে জবাব দিতে বাধ্য থাকলেও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য নন এবং মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপ্রধান অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি তার একক সিদ্ধান্তে মন্ত্রী নিযুক্ত এবং বরখাস্ত হয়। এককথায়, রাষ্ট্রপতি শাসিত শসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি অসীম ও চরম ক্ষমতার অধিকারী।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া, অসীম ক্ষমতা, আইনসভার নিকট জবাবদিহি না করা এবং আজ্ঞাবহ মন্ত্রিপরিষদ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে মূলত রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান।
তাই উদ্দীপকের সাবলীল অনুসঙ্গ থেকে সহজেই বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান সরকারব্যবস্থা হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা। আমি এ সরকারব্যবস্থাকে উত্তম মনে করি।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের রাষ্ট্রপতি একই সাথে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি চরম ক্ষমতার অধিকারী ও প্রকৃত শাসক। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার স্থায়িত্ব একে অন্য যেকোনো সরকারব্যবস্থা থেকে উত্তম স্থান দান করেছে। এ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হন এবং মেয়াদ শেষ হবার পূর্বে এ পদ থেকে তাকে অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন। এ ব্যবস্থায় সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভাকে আইনসভা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং তারা তাদের কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ব্যবস্থায় আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ স্বাধীন থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। কেননা এ ব্যবস্থায় ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর থাকে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় দেশের দ্রুত উন্নয়ন সাধিত হয়। সরকারের স্থায়িত্বের ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। এ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে সাধারণত দেশের নাম করা যোগ্য ও দক্ষ রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হন এবং তিনি তার কাজের সুবিধার্থে দেশের জ্ঞানী, গুণী, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। যার ফলে দেশ দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব পায়। এ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি এককভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ সরকারব্যবস্থা অধিকতর উপযোগী। কারণ রাষ্ট্রপতি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দ্বারা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
সুতরাং আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' সরকারব্যবস্থা তথা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার অন্যান্য সরকার থেকে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এজন্য এটি একটি উত্তম সরকারব্যবস্থা বলে আমি মনে করি।