| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ রাষ্ট্রের সেনাপ্রধান…’ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ২০২৬ – বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রের সেনাপ্রধান গণতান্ত্রিক সরকারকে পদচ্যুত করিয়ে ক্ষমতা দখল করে। তার সময়ে দু’বার আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলের কয়েকটি অংশগ্রহণ করলেও ২য় নির্বাচন প্রধান সকল দল নির্বাচন বর্জন করে। ২য় নির্বাচনে ক্ষমতা দখলকারী ব্যক্তির রাজনৈতিক দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
বাংলাদেশে প্রথম' জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক সরাসরি ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন তাকে প্রত্যক্ষ ভোট পদ্ধতি বলে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিগণ, (রাষ্ট্রপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসন ব্যতীত) এই পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে এমন নির্বাচনের বর্ণনা কর।
উদ্দীপকের সামরিক শাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনটি ছিল মূলত একটি ভোটারবিহীন ও একতরফা নির্বাচন, যা ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিফলন।
১৯৮৮ সালের এই নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ অংশগ্রহণ না করায় এর কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা ছিল না। পাঠ্যবই অনুযায়ী, এই নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য এবং এতে ব্যাপক জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের স্বচ্ছতা না থাকায় তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারায় এবং রাজনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।
সামরিক শাসকের অনুগত দল জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন লাভকরলেও প্রকৃত জনমতের কোনো প্রতিফলন এতে ঘটেনি। বিরোধী দলের বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত এমন নির্বাচন কেবল সংবিধান রক্ষা বা ক্ষমতার বৈধতা দেওয়ার একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দ্বিতীয় নির্বাচনটি একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে ব্যর্থ হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ব্যতীত এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ ছাড়া কোনো নির্বাচনই স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।