| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘‘ক’ রাষ্ট্রটির সরকার…’ যশোর বোর্ড ২০১৯ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ রাষ্ট্রটির সরকার জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হলেও সেখানে সব সময় জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচনের সময় জনগণকে প্রতিশ্রুতি সরকার মানছে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সুশাসন শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে বিশ্বব্যাংক।
বাক-স্বাধীনতা হচ্ছে কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের নির্ভয়ে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণের বাধ্যতা ব্যতিরেকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করার সমর্থিত মূলনীতি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী প্রত্যেকের অধিকার আছে নিজের মতামত এবং অভিব্যক্তি প্রকাশ করার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ এর ২ (ক) ধারায় বাক-স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তবে বাক-স্বাধীনতা চূড়ান্ত হিসেবে স্বীকার নাও করা হতে পারে। বাক-স্বাধীনতার অর্থ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করা হলেও তা যদি অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে তাহলে বাক-স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে।
‘ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব আছে।
যে শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা, সবার অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে তাকে সুশাসন বলে । সুশাসন দায়িত্বশীল, অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রদান প্রভৃতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। কোনো দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা ও সর্বাধিক জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ‘ক' রাষ্ট্রটির সরকার জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হলেও যেখানে সব সময় জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচনের সময় জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকার মানছে না। এ বিষয়গুলো সুশাসনের অনুপস্থিতিকেই নির্দেশ করে। কেননা, সুশাসনের অভাবেই কোনো দেশে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়। সুশাসনের অভাবেই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। যার ফলে সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে কাজ করে এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য থাকে না । তাই বলা যায়, ‘ক’ রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব আছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা তথা সুশাসনের সমস্যা হতে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
সুশাসন দায়িত্বশীল, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। তবে সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ নয়। এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ ত্বরান্বিত করে।
উদ্দীপকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহিমূলক সরকার এবং জনমতের প্রাধান্য না থাকার সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকার ও প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সেই সাথে জনমতকে প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা জনমতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে হবে। এছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সেবার ক্ষেত্র ও মান বৃদ্ধি করতে হবে। আর এতে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকেই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সব দায়িত্ব ও ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে না রেখে আঞ্চলিক ও স্থানীয় সরকারের নিকট কিছু দায়িত্ব ও ক্ষমতা হস্তান্তর করলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। সেইসাথে জনগণকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কেননা জনগণের যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
পরিশেষে বলা যায়, সুশাসনের সমস্যাগুলো সমাধান করলেই সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। তাই উপরিউক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা হতে উত্তরণ করা সহজ হবে।