| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ সাহেব একজন…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৫ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ সাহেব একজন নেতা। তিনি সহজেই তার বক্তব্য দ্বারা জনগণকে উজ্জীবিত ও আকৃষ্ট করতে পারেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
নেতৃত্ব হলো একটি শক্তিশালী কৌশল যার মাধ্যমে নেতা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যান্য ব্যক্তিকে পরিচালিত, প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সমাজে ইন্সিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের উদ্দীপ্ত করেন।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে একটি সংগঠিত জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা সাধারণত দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। তারা বিশেষ বিশেষ সময়ে বা ক্ষেত্রে নিজেদের গণতান্ত্রিক তথা মৌলিক অধিকার বলে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মন্তব্য প্রকাশ করে, বিবৃতি প্রদান করে বা সাক্ষাৎকার দেয়। আমাদের নগর সমাজকাঠামোর ক্ষমতা বিন্যাসের ক্ষেত্রে ও নেতৃত্বের গতি প্রকৃতি- নির্ধারণে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে জনাব 'ক' -এর মধ্যে সম্মোহনী নেতৃত্বের গুণাবলী প্রকাশিত হয়েছে।
কোন বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজের দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয় তখন তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বা জাদুকরি নেতৃত্ব বলা হয়। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম এজাতীয় নেতৃত্বের ধারণা প্রদান করেন। ব্রিটিশ ভারতের মহাত্মা গান্ধী, বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান, শেরেবাংলা এ. কে ফজলুল হক প্রমুখ নেতৃত্ববৃন্দের নেতৃত্ব ও জাতীয় নেতৃত্বের উদাহরণ। সম্মোহনে নেতৃত্বের প্রতি জনগণ অন্ধ আবেগে আপ্পুত হয়ে ওঠেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব 'ক' একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি তার ব্যক্তিত্ব, বাচনভঙ্গি ও ব্যক্তির গুণাবলী দ্বারা মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। কঠোর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি জনগণের অবস্থার প্রতীকে পরিণত হন। পৌরনীতি ও সুশাসনের এরূপ নেতৃত্ব কে সম্মোহনের নেতৃত্ব বলা হয়।
উদ্দীপকে জনাব 'ক' এর নেতৃত্বে সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রতিফলন পাওয়া যায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এজাতীয় নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম।
নেতৃত্ব সুশাসনের বাহন। আর সম্মোহনের নেতৃত্ব হলো নেতার সে জাদুকরী গুন যার মাধ্যমে তিনি জনগণকে আবেগের আপ্পুত করতে পারেন। ফলের সহজেই তার অনুসারীদের প্রভাবিত করতে পারেন। অপরদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনগণকে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে হয় এবং বিভিন্ন কর্তব্য পালন করতে হয়। সম্মোহনী নেতৃত্তের গুনে একজন নেতা খুব সহজেই জনগণকে সেসব কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রে যেসব মহান নেতার আবির্ভাব ঘটেছে, তাদের সম্মোহনী নেতৃত্বই সে সব দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। সঠিক নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষমতায় বসে প্রথমেই সুশাসনের অন্তরায় সমূহ চিহ্নিত করেন এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার সাথে সেসব অন্তরায় দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাই সুশাসনের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ আর্মি তার গুন অতি আবশ্যক। উদ্দীপকে আলোচিত নেতৃত্ব তথা সম্মোহনী নেতৃত্বই হচ্ছে সেই গুণ, যা সে নেতৃত্ব ও জনগণের অংশগ্রহণের নিশ্চিত করে। ফলে এ ধরনের গুণাবলী সুন্দর সমাজ ও সুশাসিত রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে। তাই সুশাসন ও সম্মোহনী নেতৃত্ব পরস্পর সম্পূরক ও পরিপূরক। অতএব সুশাসনের সম্মোহনের নেতৃত্বর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।