| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ সহজেই তার…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ সহজেই তার বক্তব্য দ্বারা জনগণকে উজ্জীবিত ও আকৃষ্ট করতে পারেন। তিনি পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে যখন কিছু সদস্য দলীয় নীতি ও কর্মসূচির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করে কিংবা সাধারণ স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে উপদল বলে।
জাতীয়তা হচ্ছে এক ধরনের মানসিক ধারণা এবং এক প্রকার সচেতনতা। জাতীয়তার ধারণা কোনো জনসমাজকে অন্য জনসমাজ থেকে পৃথক করে তোলে। একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যের সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদের অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সে জনসমষ্টিকে জাতীয়তা বলে।
উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর মধ্যে সম্মোহনী নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশিত হয়েছে।
কোনো বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজের দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন তখন তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বা জাদুকরী নেতৃত্ব বলা হয়। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম এ জাতীয় নেতৃত্বের ধারণা প্রদান করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'ক' একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি তার ব্যক্তিত্ব, বাচনভঙ্গি ও ব্যক্তিক গুণাবলি দ্বারা মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। কঠোর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হন। তিনি ভবিষ্যতে একটি সুন্দর সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। পৌরনীতি ও সুশাসনে এরূপ নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়।
উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর নেতৃত্বে সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রতিফলন পাওয়া যায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ জাতীয় নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম।
নেতৃত্ব সুশাসনের বাহন। আর সম্মোহনী নেতৃত্ব হলো নেতার সেই জাদুকরী গুণ যার মাধ্যমে তিনি জনগণকে আবেগে আপ্লুত করতে পারেন। ফলে সহজেই তার অনুসারীদের প্রভাবিত করতে পারেন। অপরদিকে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনগণকে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে হয় এবং বিভিন্ন কর্তব্য পালন করতে হয়। সম্মোহনী নেতৃত্বের "গুণে একজন নেতা খুব সহজেই জনগণকে সেসব কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রে যেসব মহান নেতার আবির্ভাব ঘটেছে, তাদের সম্মোহনী নেতৃত্বই সেসব দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। সঠিক নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন ব্যক্তি ক্ষমতায় বসে প্রথমেই সুশাসনের অন্তরায়সমূহ চিহ্নিত করেন এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার সাথে সেসব অন্তরায় দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাই সুশাসনের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ আর নেতার গুণ অতি আবশ্যক। আর উদ্দীপকে আলোচিত নেতৃত্ব তথা সম্মোহনী নেতৃত্বই হচ্ছে সেই গুণ, যা সেই নেতৃত্ব ও জনগণের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করে। ফলে এ ধরনের গুণাবলি সুন্দর সমাজ ও সুশাসিত রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে। তাই সুশাসন ও সম্মোহনী নেতৃত্ব পরস্পর সম্পূরক ও পরিপূরক। অতএব, সুশাসনে সম্মোহনী নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।