| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ক’ সরকারের একটি…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামো, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

ক’ সরকারের একটি বিভাগ সরকারের অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রক ও রক্ষক হিসেবে কাজ করে থাকে। এটি বিতর্ক সভা হিসেবেও কাজ করে থাকে। ‘খ’ সরকারের আরেকটি বিভাগ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে। নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান করাও এই বিভাগের কাজ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
উপজেলা কোষাগারের রক্ষক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
কোরাম মানে Required Number of members অর্থাৎ যে সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে কোন সভার কার্যপরিচালনা করা যায় তাকে কোরাম বলে।
বাংলাদেশে সংবিধান মোতাবেক কমপক্ষে এক পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ৩০০ জনের মধ্যে ৬০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সংসদের কাজ পরিচালিত হতে পারে। ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন এবং পাঁচ মিনিটকাল ঘণ্টা বাজাতে বলেন। ঘণ্টাধ্বনি ব্যর্থ হওয়ার পরও কোরাম না হলে স্পিকার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন।
উদ্দীপক 'ক'-তে আলোচিত প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'আইনসভা' বা 'জাতীয় সংসদ'-এর মিল রয়েছে। আইনসভা সরকারের তিনটি বিভাগের একটি। এটি রাষ্ট্রের সাধারণ আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও পুরাতন আইন বাতিল করে থাকে। এছাড়া আইনসভা জাতীয় তহবিলের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিতর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উদ্দীপকে 'ক' বিভাগটি সরকারের অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রক ও রক্ষক হিসেবে কাজ করে এবং এটি একটি বিতর্ক সভা হিসেবেও পরিচিত। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদও ঠিক একইভাবে কাজ করে। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর ধার্য বা সরকারি অর্থ ব্যয় করা যায় না। আবার সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে আইন প্রণয়ন ও জনমত গঠন করেন। উদ্দীপকের এই বৈশিষ্ট্যগুলো জাতীয় সংসদের কার্যাবলির সাথে মিলে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' বিভাগটি মূলত জাতীয় সংসদকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপক 'খ'-তে আলোচিত বিভাগটি হলো 'বিচার বিভাগ', যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম। এটি সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে কাজ করে এবং শাসন ও আইন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে নাগরিক অধিকার রক্ষা করে।
উদ্দীপকে 'খ' বিভাগটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নাগরিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিধানের কাজ করে। বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং অপরাধীদের শাস্তি ও নিরপরাধীদের মুক্তি নিশ্চিত করে। এটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে তার আইনগত সমাধান দেয়।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হয়, তবেই সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে এবং সরকারের যেকোনো অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত করে এবং সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায়, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকের বিচার বিভাগটির ভূমিকা অনস্বীকার্য।