| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ ভাষাভাষী কিছু…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – দেশপ্রেম ও জাতীয়তা, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ ভাষাভাষী কিছু জনগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করলেও তারা নিজেদের জাতি বলে মনে করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
জাতীয়তার চেতনা দ্বারা উদ্বুদ্ধ জনসমাজ স্বাধীন হলে বা স্বাধীনতা লাভে আগ্রহী হলে তাকে জাতি বলে।
কনফেডারেশন হলো একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে কয়েকটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রেখে কিছু সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একটি আলগা জোট বা সংঘ গঠন করে। এখানে কেন্দ্রীয় সরকার অত্যন্ত দুর্বল থাকে এবং প্রকৃত ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো যেকোনো সময় সংঘ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর ১৭৮১-১৭৮৯ সালের মধ্যে গঠিত কনফেডারেশন এর একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ।
উদ্দীপকে জাতীয়তার কোন উপাদানের অনুপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
না, উদ্দীপকে উল্লেখিত জনগোষ্ঠীকে আমি যথার্থ জাতি বলে মনে করি না।
জাতি একটি মূর্ত ও পরিপূর্ণ ধারণা। জাতি বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বাস করে এবং যাদের মধ্যে ভাষাগত, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐক্য বিরাজমান থাকে । জাতির মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা থাকে প্রবল। উদ্দীপকের ‘ক’ ভাষাভাষী কিছু জনগোষ্ঠী পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাস করলেও তারা নিজেদেরকে জাতি বলে মনে করে। এটি মূলত জাতীয়তার ধারণাকে নির্দেশ করে । কারণ তাদের মধ্যে একই ভৌগোলিক আবাস এবং রাজনৈতিক চেতনা নেই। জাতিতে পরিণত হওয়া মানে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করা। জাতি সার্বভৌম ও স্বাধীন হয়, না হয় স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত থাকে। যদিও জাতীয়তা থেকেই জাতি উদ্ভূত হয়, কিন্তু জাতীয়তার রূপকেই জাতি বলা যায় না। এছাড়া একটি রাষ্ট্রে একাধিক জাতীয়তা থাকলেও জাতি কেবল একটিই থাকতে পারে। মোটকথা জাতীয়তা থেকে জাতিতে পরিণত হতে হলে রাজনৈতিক সংগঠন এবং স্বাধীন অথবা স্বাধীনতাকামী হওয়া আবশ্যক।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের “ক' ভাষাভাষী। জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তা থাকলেও তাদের মধ্যে জাতি গঠনের মৌলিক শর্তগুলো পূরণ হয়নি। তাই বলা যায়, 'ক' ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী যথার্থ জাতি নয়।