| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’ক’ ভূমিরূপটি জলভাগের…’ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – বারিমণ্ডল, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘ক’ ভূমিরূপটি জলভাগের তলদেশে গভীরতা ৫০ মিটার গভীরে অবস্থিত।
‘খ’ জলভাগের তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত এবং এর উত্তরে উপকূলে অবস্থিত দেশের একটি গ্যাস ক্ষেত্র এ জলভাগে অবস্থিত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
ভূপৃষ্ঠের যে বিশাল অংশ পানিরাশি দ্বারা আবৃত রয়েছে তাই বারিমণ্ডল।
জলীয়বাষ্প শীতল হয়ে তরল পানিতে রূপান্তর হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলা হয়।
সূর্যের তাপে নদীনালা বা সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত হয়ে হালকা হয়ে উপরে ওঠে যায়। উপরের বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা কম থাকায় সেই জলীয়বাষ্প শীতল হয় এবং বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা ও অন্যান্য কণিকাকে আশ্রয় করে ছোট ছোট পানিবিন্দুতে পরিণত হয়। এভাবেই মেঘ বা কুয়াশা সৃষ্টি হয়, যা ঘনীভবন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
উদ্দীপকের 'ক' ভূমিরূপটি হলো মহাদেশীয় সোপান।
সমুদ্র উপকূল থেকে সমুদ্রের তলদেশ ক্রমশ ঢালু হয়ে সাগরের গভীরে নেমে যায়। এর মধ্যে উপকূলের নিকটবর্তী যে অংশটি অত্যন্ত মৃদু ঢালযুক্ত এবং যার গভীরতা সাধারণত ২০০ মিটার পর্যন্ত হয়, তাকে মহাদেশীয় সোপান বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত ৫০ মিটার গভীরতা এই অঞ্চলেরই বৈশিষ্ট্য।
পৃথিবীর মহাদেশগুলোর চতুর্দিকে স্থলভাগের পিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপ যেসব অংশে সমুদ্রের গভীরতা ১৮০ মিটারের অনধিক সেসব ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। এটি ১° কোণে সমুদ্রের তলদেশে বিস্তৃত থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর এবং এর উত্তর উপকূলবর্তী দেশটি হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বঙ্গোপসাগর বা 'ব্লু ইকোনমি' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বঙ্গোপসাগর থেকে বছরে লাখ লাখ টন মাস (বিশেষ করে ইলিশ) আহরণ করা হয়, যা দেশের প্রোটিন চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্যাস ক্ষেত্রগুলো (যেমন- সাঙ্গু বা উপকূলীয় অঞ্চল) বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। সমুদ্রের বিশাল ব্লকে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ বিশ্বের সাথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনা করে। এই বন্দরগুলোই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও সেন্টমার্টিনের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলো বঙ্গোপসাগরের তীরেই অবস্থিত, যা দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক। বঙ্গোপসাগরের এই বিশাল প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অপরিহার্য।