| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’কাবুলিওয়ালা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের…’ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘কাবুলিওয়ালা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটোগল্প। গল্পটি কেবল কাবুল দেশের কাবুলিওয়ালা রহমতের জীবনকাহিনি নয় বরং এটি একজন পিতার অসীম ভালোবাসা ও আবেগের প্রতিচ্ছবি। আফগান ‘এ ফল বিক্রেতা কলকাতায় ফল বিক্রির সুবাদে লেখকের মেয়ে মিনির সাথে নিবিড় সখ্য গড়ে তোলেন। মিনির মধ্যে তিনি কাবুলে ফেলে আসা তার মেয়ের ছবি খুঁজে ফেরেন। গল্পের শেষে মিনির বারা তার মেয়ের বিয়ের খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে রহমতকে দিয়ে তার নিজের দেশে গিয়ে মেয়ের সাথে দেখা করার সুযোগ করে দেন। গল্পটিতে ফুটে উঠেছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শক্তি ভালোবাসা ও মানবিকতা-যা জাতি-ধর্ম ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
স্কুলঘরে আমরা কাব্যের রূপ দেখতে পাই না।
মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ কারণ এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন ও আনন্দদানের জন্যই সংঘটিত হয়।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, খেলা শুধু আনন্দ দেয়, যা শ্রেণি বা 'ভেদাভেদ ছাড়াই সবার জন্য সমান। এটি মানুষের মন ও দেহকে সতেজ রাখে এবং জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। খেলায় কোনো স্বার্থ বা উপকারের আকাঙ্ক্ষা নেই, যা একে অন্য সব কার্যকলাপ থেকে আলাদা করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে।
"শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো"- 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের এ বিষয়টি শিক্ষা ও সাহিত্যের পার্থক্য নির্ণয়ের মাধ্যমে উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, সাহিত্য মানুষের অনুভূতি ও চেতনার স্তরে স্পর্শ করে তার মনকে সচেতন ও সক্রিয় করে তোলে। সাহিত্যের রস অমৃত সুধার মতো সঞ্জীবনী শক্তিসম্পন্ন। এর স্পর্শে মানুষের অন্তরাত্মা সজীব ও বিকশিত হয়। মানুষের মাঝে সত্যিকার অর্থে মানবিকতার জাগরণ ঘটায় সাহিত্য।
উদ্দীপকের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পটি পাঠকের মনকে জাগিয়ে তোলে মানবতা, স্নেহ ও ভৌগোলিক সীমানার বোধে। রহমতের প্রতি লেখকের সহানুভূতি এবং মিনির সাথে তার সম্পর্কের মাধ্যমে গল্পটি পাঠকের মধ্যে সহমর্মিতা ও মানবিক বোধ জাগ্রত করে। এই জাগরণই হলো সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য, যা শিক্ষার তথ্যনির্ভর দিক থেকে ভিন্ন। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্য পাঠকের মনকে জাগিয়ে তোলে আনন্দ ও অনুভূতির মাধ্যমে। উদ্দীপকের গল্পটি ঠিক সেই কাজটি করেছে- এটি পাঠকের মানবিক চেতনাকে জাগ্রত * করেছে, যা শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
'বিশ্বমানবের সাথে নিত্যনতুন সম্বন্ধ পাতানোই কবিমনের নিত্য-নৈমিত্তিক কর্ম'- উক্তিটি যথার্থ কারণ উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ের মধ্যেই এই উক্তি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক ব্যাখ্যা করেন, কবি বা সাহিত্যিক তার সৃষ্টির মাধ্যমে অজানা মানুষের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি - করেন, তাদের অনুভূতির সাথে মিলিত হন। এটি সাহিত্যের খেলা বা লীলার অংশ, যা মানুষের মনকে সংযুক্ত করে এবং একই আনন্দে শরিক করে।
উদ্দীপকের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বিশ্বমানবের সাথে সম্পর্ক পাতানোর কাজটি সার্থকভাবে করেছেন। গল্পের কাবুলিওয়ালা একজন আফগান ফল বিক্রেতা কিন্তু লেখক তাকে এবং তার গভীর পিতৃস্নেহকে বিশ্বজনীন রূপ দিয়েছেন। গল্পটি পাঠকের সঙ্গে রহমতের মানবিক বন্ধন তৈরি করে, জাতি, ধর্ম ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে। এটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের বক্তব্যেরই প্রতিফলন।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্য হলো 'মনোজগতে খেলা'। উদ্দীপকের কাবুলিয়ালা এই খেলার মাধ্যমে মিনির সাথে আনন্দ ও সম্পর্ক তৈরি করেছে। রহমতের সাথে মিনির বন্ধুত্ব পাঠকের হৃদয়ে সর্বজনীন মানবতার বোধ জাগায়। এই বোধ সময় ও স্থানের সীমাকে অতিক্রম করে। প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের এই সম্পর্ক পাতানোর কাজটি কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থের জন্য নয় বরং এটি নিষ্কাম খেলা। রবীন্দ্রনাথও এই গল্পে একটি সহজ মানবিক সম্পর্কের গল্প বলেছেন, যা পাঠকের সঙ্গে বিশ্বজনীন সংযোগ স্থাপন করেছে। সুতরাং উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক যে, উদ্দীপকের গল্প ও প্রবন্ধ দুটোই কবি বা লেখকের এই বিশ্বমানবের সাথে সম্পর্ক পাতানোর নিত্যনৈমিত্তিক কর্মকে সমর্থন করে এবং প্রকাশ করে।