| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কাজী মোতাহের হোসেনের…’ a – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কাজী মোতাহের হোসেনের মতে, “মানুষের প্রচেষ্টায় মানুষের জন্যই যে সাহিত্য রচিত হয় তাহা যদি মানবহিত এবং মানবসভাতার ক্রমোন্নতির দিকনির্দেশ না করে তবে বড়ই আক্ষেপের কথা।” সুতরাং বিষয়টি পরিষ্কার যে, মানুষ ভালো হবে, মানুষ ভালো করবে এটাই স্বাভাবিক দাবি। সুতরাং মানুষের সাহিত্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করবে এটাও স্বাভাবিক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে 'ইতর' শব্দটি নগণ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
➤ "শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন"- কথাটি দ্বারা শিল্পীদের শৈল্পিক সাবলীলতা প্রকাশ পায়।
➤ যিনি সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন, তিনিই শিল্পী। আর শিল্পীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রধান দিক হচ্ছে শিল্প সৃষ্টি করা। সৃজনশীলতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে শিল্পীরা যা-ই করেন, তা-ই প্রকাশ পায় শিল্প হিসেবে। কিন্তু যারা শিল্পী নন, তাদের হাতে ওই কাজ আনাড়ি হাতের শিল্প হয়ে ওঠে। এটাই শিল্পীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের তফাত।
সারকথা: সৃজনশীল ক্ষমতা। যার আছে, তিনিই শিল্পী। আর শিল্পীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রধান দিক হচ্ছে শিল্প এ সৃষ্টি করা। এটা একধরনের শৈল্পিক খেলা।
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো- সাহিত্যের উদ্দেশ্যের বিষয়টি তুলে ধরা।
➤ সাহিত্য হলো লেখকের নির্মল মনের ভাবনার প্রকাশ। সাহিত্য পাঠ করে পাঠক নির্মল আনন্দই লাভ করে। সাহিত্যিক যদি কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করেন তাহলে সেখানে আনন্দ থাকে না।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি আলোকপাত করেছেন। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সবাইকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। লেখক মূলত সাহিত্যের উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছেন নিছক আনন্দ দানের কথা। উদ্দীপকেও দেখা যায়, কাজী মোতাহের হোসেন সাহিত্যের উদ্দেশ্যের কথাই বলেছেন। তিনি সাহিত্যের উদ্দেশ্যের স্বরূপ বলেছেন মানবকল্যাণ। প্রাবন্ধিক ও উদ্দীপকের লেখক দুজনের বর্ণনায়ই সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটিই প্রধান হয়ে উঠেছে। এভাবেই স্যাহিত্যের উদ্দেশ্যের বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে আনন্দ দান। আর উদ্দীপকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে মানবকল্যাণ। উভয় স্থানেই সাহিত্যের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে। মূলত এই দিকটিই সাদৃশ্যপূর্ণ।।
➤ "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের বিষয়টি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের পুরো বিষয়কে নির্দেশ করে না।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্য ও শিক্ষার মধ্যে একটা পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষা মানুষ জোর করে গ্রহণ করে, অন্যদিকে সাহিত্য মানুষ পাঠ করে মনের আনন্দে। সাহিত্য পাঠে ব্যক্তির চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি হয়। পাঠক নির্মল আনন্দ লাভ করে।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। খেলার উদ্দেশ্য যেমন নিছক আনন্দ লাভ তেমনই সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দ লাভ করা। যদি কারও মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হয় তাহলে সেই সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। প্রাবন্ধিক এরূপ সাহিত্যের উদ্দেশ্য বর্ণনার পাশাপাশি প্রবন্ধে পাঠকের সাহিত্য পাঠে রস আস্বাদনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এছাড়াও সাহিত্য পাঠ কীভাবে মানবমনে সাড়া জাগায় সে সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। এদিকে উদ্দীপকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ এরূপ বলা হয়েছে, যা প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি ইঙ্গিত করে মাত্র।
➤ উদ্দীপকে সাহিত্য মানবকল্যাণ নিশ্চিত করবে এরূপ বর্ণনায় কেবল আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। এছাড়া প্রবন্ধে আলোচিত সাহিত্যের সঙ্গে পাঠকের কীরূপ সম্পর্ক, আনন্দ লাভ এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে কেবল সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাহিত্যের উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যান্য বিষয় নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।