| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কাজী নজরুল ইসলাম…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৫ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধে বলেন-“আমি শুধু রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি নাই, সমাজের, জাতির, দেশের বিরুদ্ধে আমার সত্য-তরবারির তীব্র আক্রমণ সমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তার জন্য ঘরে-বাইরের বিদ্রুপ, অপমান, লাঞ্ছনা, – আঘাত আমার উপর পর্যাপ্ত পরিমাণে বর্ষিত হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে অবমানিতের 'মরম বেদনা' বলেছেন।
"মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য।"-চরণটিতে কবি প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয়ে নিজ অস্তিত্বের স্বরূপ তুলে ধরেছেন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় শোষণ-নির্যাতন থেকে নিপীড়িত জাতিকে মুক্তিদানের জন্য কবি বিদ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি মানবপ্রেম ও সাম্যচেতনার কথা বলেছেন। অসাম্য ও অনাচার লক্ষ করে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। তাঁর বিদ্রোহ মূলত পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য মানবমুক্তি। নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দন বন্ধ করা। কবিসত্তার এই বিদ্রোহী রূপ এবং তার অন্তরালে মানবপ্রেমের বিষয়টি বোঝাতেই তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার শাসকের ও সমাজের সকল অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে কবির সদন্ড আত্মপ্রকাশের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি ঔপনিবেশিক রাজশক্তির সমস্ত অন্যায়-অবিচারের বিরোধিতা করেছেন। তিনি সমাজের চলমান অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর এ বিদ্রোহের মূলে রয়েছে সমস্ত অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে মানুষের সার্বিক মুক্তির পথ পরিষ্কার করে দেওয়ার বাসনা। অত্যাচারীর অত্যাচারের চির অবসান- এ কবিতার কবির একান্ত কাম্য।
উদ্দীপকে বক্তা স্বাচ্ছন্দ্যচিত্তে প্রকাশ করেছেন- কেবল ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ নয়, তাঁর বিদ্রোহ সমাজের সকল অন্যায়, অবিচার, অনিয়মের বিরুদ্ধে। সমাজের, জাতির, দেশের বিরুদ্ধে তার সত্য তরবারির তীব্র আক্রমণ সমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও কবি উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্রোহ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সমাজের সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। আত্মজাগরণে উন্মুখ কবি সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছেন। তাই বলা যায় 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর সদম্ভ- আত্মপ্রকাশের দিকের সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল সুরকে ধারণ করেনি।"-মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী সত্তার জাগরণে কাঁপিয়ে দেন ঔপনিবেশিক শাসকের ক্ষমতার ভিত। তিনি উচ্চকণ্ঠ ঘোষণায় জানিয়ে দেন, উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না।
উদ্দীপকের প্রাবন্ধিক ঘোষণা করেছেন যে, তিনি শুধু শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী নন। সমাজ, জাতি ও দেশের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর সত্য-কঠিন-তরবারির তীব্র আক্রমণ সমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। এ জন্য তিনি বারবার উপহসিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
উদ্দীপকে প্রাবন্ধিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবানবন্দিতে সত্য-স্বীকারোক্তি বর্ণিত হয়েছে। 'বিদ্রোহী' কবিতার কবিও নিজেকে বিদ্রোহী বলে ঘোষণা করেছেন। এই দিক দিয়ে উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতার মিল থাকলেও উদ্দীপকটি কবিতার মূল সুরকে সর্বাংশে ধারণ করতে পারেনি। 'বিদ্রোহী' কবিতায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে কবির ক্ষোভ ও বিদ্রোহ ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পুরাণের উৎস থেকে উপাদান গ্রহণ, অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান কামনার দীপ্ত বাসনা ধ্বনিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল সুরকে ধারণ করেনি।