কাল যে ছিল আজ সে নাই; আজও যে ছিল, তাহারও ঐ নশ্বর দেহটা ধীরে ধীরে ভস্মসাৎ হইতেছে, আর তাহাকে চেনাই যায় না, অথচ এই দেহটাকে আশ্রয় করিয়া কত আশা, কত আকাঙ্ক্ষা, কত ভয়, কত ভাবনাই না ছিল। কোথায় কোথায় গেল? এক নিমিষে কোথায় অন্তর্হিত হইল? তবে তার দাম? মরিতেই বা কতক্ষণ লাগে?
খেয়ানৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে।
সভ্যতার নশ্বরতা বোঝাতে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
সভ্যতা নশ্বর। মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতাই আজ বিলীন হয়ে গেছে। এশিরিয়া ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছু নয়; কিন্তু প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময় ও জীবন্ত হয়ে থাকে। পৃথিবীর অফুরন্ত সৌন্দর্য কখনো শেষ হয় না। প্রশ্নাংশে কবি মানবসভ্যতার এ অনিবার্য বিবর্তনকে বুঝিয়েছেন।
উদ্দীপকে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তার সাথে ‘সেই দিন এই মাঠ’ কবিতার সাদৃশ্য হলো মানুষের মরণশীলতা ও সভ্যতার নশ্বরতা।
‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় বর্ণিত, মানুষের মৃত্যু আছে কিন্তু এ জগতের সৌন্দর্যের মৃত্যু নেই। কালের আবর্তনে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মানুষের তৈরি সভ্যতাও এক সময় বিলীন হয়ে যায়। যেভাবে এশিরিয়া ও বেবিলন সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। আলোচ্য কবিতায় প্রকৃতির চিরন্তনতার পাশাপাশি ব্যক্তি মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতার নশ্বরতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতার নশ্বরতার কথা বলা হয়েছে। মানুষ অমরণশীল নয়। ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু আছে। মানুষ যেসব সভ্যতা গড়ে তুলে সেগুলোরও নশ্বরতা রয়েছে। মানুষের তৈরি বিখ্যাত সভ্যতাগুলো আজ বিলীন হয়ে গেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তার সাথে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সাদৃশ্য হলো মানুষের মরণশীলতা ও সভ্যতার নশ্বরতা।
উদ্দীপকে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি বলেই আমি মনে করি।
‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরন্তন রীতিনীতি ও শাশ্বত রূপের কথা বলেছেন। এ বিষয়টির পাশাপাশি কবি ব্যক্তিমানুষের মরণশীলতা ও সভ্যতার নশ্বরতার দিকটি তুলে ধরেছেন। ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও মানুষের স্বপ্ন চিরকাল বেঁচে থাকে। প্রকৃতির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের ওপর মানুষের মৃত্যুর কোনো প্রভাব পড়ে না। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই সদা চলমান থাকে। তবে মানব সভ্যতা পৃথিবীতে অবিনশ্বর নয়। কালের আবর্তনে সভ্যতা এক সময় বিলীন হয়ে যায়।
উদ্দীপকে মানুষের নশৃরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কারণ মানুষ কোনো অমরণশীল প্রাণী নয়। মানুষের মৃত্যু অবধারিত। মানুষের জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। কাল যে ছিল আজ সে নেই কিংবা আজ যে আছে আগামী কাল সে হয়তো থাকবে না। এভাবেই মানুষ একদিন এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে। মানুষের ঐশ্বর্য-প্রভাব ও প্রতিপত্তি সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে।
‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় মানুষের জীবন ও সভ্যতার নশ্বরতার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। আর এ দিকটি উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য কবিতায় প্রকৃতির চিরন্তনতা ও শাশ্বত রূপ চিত্রিত হয়েছে। যা উদ্দীপকের মধ্যে অনুপস্থিত। আর এ দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করতে সক্ষম হয়নি। তাই আমি মনে করি উদ্দীপকে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি।
