| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কামাল সাহেব দীর্ঘদিন…’ সিলেট বোর্ড ২০২৩ – নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয়, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

কামাল সাহেব দীর্ঘদিন থেকে জ্বর, কাশি এবং নিউমোনিয়াসহ নানাবিদ শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি লক্ষ্য করলেন তার ওজন ও দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং ক্রমাগত তিনি দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হলে ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে জানান যে, তিনি একটি ভাইরাস জনিত প্রাণঘাতী ব্যাধিতে আক্রান্ত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
পুরুষ কর্তৃক নারীকে উত্ত্যক্ত, লাঞ্ছিত এবং যৌননিপীড়ন করাই ইভটিজিং।
খাদ্য ভেজাল বলতে সাধারণত বিশুদ্ধ বা খাঁটি নয়, এমন খাদ্যদ্রব্যকে বোঝায়। কিংবা উৎকৃষ্ট দ্রব্যের সাথে নিকৃষ্ট দ্রব্যের মিশ্রণকে ভেজাল খাদ্য বলা হয়। অর্থাৎ খাদ্য ভেজাল বলতে, যেসব খাদ্যদ্রব্য প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক উপায় প্রস্তুত না করে ক্ষতিকর, নিম্নমানের, অকেজো ও অস্বাস্থ্যকর জিনিস দিয়ে তৈরি করা হয়। খাদ্য ভেজাল মেশানো যেমন একটি সামাজিক অপরাধ তেমনি এটি মানবতাবিরোধী অপরাধও বটে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কামাল সাহেব এইডস রোগে আক্রান্ত।
এইডস একটি মরণব্যাধি। এইডস হলো HIV নামক ভাইরাসের আক্রমণে সৃষ্ট মানব শরীরে একটি রোগ। HIV ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং একপর্যায়ে তার সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ব্যক্তি সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য মাইক্রো অর্গানিজম দ্বারা আক্রান্ত হয়। এক পর্যায়ে রোগী নিশ্চিতভাবে মৃত্যুবরণ করে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে অন্য রোগের মতোই বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য লক্ষণ গুলো হল - দ্রুত ওজন হ্রাস, দীর্ঘদিন শুকনো কাশি, দীর্ঘদিন পাতলা পায়খানা, বারবার জ্বর বা রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, অত্যাধিক দুর্বলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কামাল সাহেবের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো হচ্ছে - দীর্ঘদিন থেকে জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া শহর নানা ধরনের শারীরিক দুর্বলতা। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন তিনি একটি ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী ব্যাধিতে আক্রান্ত। এসব বৈশিষ্ট্য দ্বারা এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কামাল সাহেব HIV ভাইরাসের আক্রমণের শিকার।
সুতরাং বলা যায়, কামাল সাহেব এইডস রোগে আক্রান্ত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রোগ তথা এইডস বিস্তাররোধে নাগরিকের নানাবিধ করণীয় রয়েছে।
এইডস এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধের তেমন কার্যকর কোন ব্যবস্থা না থাকায় এর দ্রুত বিস্তার ঘটছে। এজন্য এইডসকে প্রতিহত করার ব্যাপারে নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সকলের করণীয় হলো নাগরিক সচেতনতা, অবাধ যৌনাচার, ও ব্যভিচার রোধ করা, ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা অর্জন, মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন,ব্যক্তিগত সতর্কতা মেনে চলা, আক্রান্তদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করা ইত্যাদি। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই বিস্তার রোধে আমাদের করণীয় হলো বিবিধ। এক্ষেত্রে এইডস প্রতিরোধে আমাদের প্রথম করণীয় হলো নিজেদের নিরাপদ রাখা। এজন্য আমাদের অবাধ বা অনিরাপদ যৌনতা, অপরীক্ষিত রক্ত সঞ্চালন বা মাদক দ্রব্যের গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি এর ব্যাপারে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এক্ষেত্রে এইডসের ভয়ঙ্কর পরিণতি, এইডস এর লক্ষণসমূহ ও এটি থেকে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এভাবে নাগরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মরণব্যাধি এইডস থেকে সমাজকে মুক্ত রাখা সম্ভব।