| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কারো ঘর ভাঙে…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – অপরিচিতা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কারো ঘর ভাঙে ঝড়ে
কারো সংসার পুড়ে যায় যৌতুকের আগুনে।
কেউ করে হায় হায়, বাপ-মা কাঁদে
মেয়েকে বিয়ে দিতে হয়-পড়ে যৌতুকের ফাঁদে।
করবে না বিয়ে সোনালি নিজেকে করে পণ্য
এটা তার পণ সোনালি জীবনের জন্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
'অপরিচিতা' গল্পে কন্যাকে এয়ারিং দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা অনুপম কল্যাণীর কাছাকাছি থাকা বলতে হৃদয়ে জায়গা পাওয়ার কথা বুঝিয়েছে।
কানপুরে পৌঁছে কল্যাণীর পরিচয় জানতে পেরে অনুপমের হৃদয় আবারো কল্যাণীর চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়। সে কল্যাণীকে বিয়ে করতে চাইলেও কল্যাণী রাজি হয় না। কল্যাণীর কাছাকাছি থাকার জন্য সে কানপুরেই বসবাস করতে শুরু করে। সুযোগ পেলেই সে কল্যাণীর কাজে সাহায্য করে আর মনে করে হয়তো এভাবেই সে কল্যাণীর হৃদয়ে স্থান পেয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দৃঢ়চেতা এক নারী চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা উদ্দীপকের সোনালির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আলোচ্য গল্পের কল্যাণী আত্মমর্যাদায় বলীয়ান একজন নারী। সামাজিক রীতিনীতির চেয়ে আত্মসম্মানই তার কাছে বড়। আর তাই তো বাবার কথায় লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে সে এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। নিজেকে নিয়োজিত করেছে মাতৃ-আজ্ঞা তথা দেশসেবায়।
উদ্দীপকে যৌতুক প্রথার কারণে সংসার ভাঙার কথা বলা হয়েছে। একইসাথে যৌতুকের কাছে কন্যার পিতামাতার অসহায়ত্বের দিকটিও স্পষ্ট। কিন্তু সোনালি নামের মেয়েটি নিজেকে যৌতুক প্রথার কাছে সমর্পণ করবে না। জীবনকে সুন্দরভাবে সামনে এগিয়ে নিতে সে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে আলোচ্য গল্পের কল্যাণীও তাই। অনুপমের মামার যৌতুকলোভী আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল সে। যৌতুক প্রথা সংশ্লিষ্ট তিক্ত অভিজ্ঞতার ফলে পরবর্তীতে সে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশসেবায় মগ্ন হয়েছিল।
অপরিচিতা' গল্পের কাহিনি মূলত যৌতুক প্রথা ও এর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।
'অপরিচিতা' গল্পে যৌতুক প্রথার ঘৃণ্য রূপটি ফুটে উঠেছে। এ প্রথা নারীকে পণ্য ও বিয়ে ব্যাপারটিকে বেচা-কেনার সম্পর্কে পরিণত করেছে। যৌতুকের লোভ যে মানুষের মানসিকতাকে কতটা হীন করে দিতে পারে তার প্রমাণ হলো অনুপমের মামার আচরণ।
উদ্দীপকে যৌতুকের কারণে সংসার ভাঙার কথা বলা হয়েছে। কন্যার বাবা- মায়েরা মেয়ের সুখ-চিন্তা করে বরপক্ষের যৌতুকের দাবি মেনে নেয়। 'অপরিচিতা' গল্পেও যৌতুকের এই দিকটি স্পষ্ট। অনুপমের মামা কন্যার গহনা যাচাই করার জন্য সেকরা সাথে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর এই আচরণ তাঁর যৌতুকলোভী মানসিকতাকে সবার সামনে উন্মুক্ত করেছে। অনুপমের মামার কাছেও কল্যাণী পণ্যের মতো ছিল আর তাই তো তার মাঝে ছিল দামে ঠকে না যাওয়ার নির্লজ্জ মানসিকতা। তাঁর আচরণের কারণে অনুপম কল্যাণীর বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যায়। এমনিভাবে ভেঙে যায় অনেক বৈবাহিক সম্পর্কও যার কথা উদ্দীপকে বলা হয়েছে।
উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের সামাজিক কাঠামোর সাদৃশ্য এখানেই যে, উভয়ক্ষেত্রেই সম্পর্কের গুরুত্বের চেয়ে যৌতুক প্রথার প্রভাব বেশি। উদ্দীপকে নিহিত সামাজিক কাঠামো ও আলোচ্য গল্পের সামাজিক কাঠামো একই। উভয়ক্ষেত্রেই অমানবিক যৌতুক প্রথার প্রভাব বিদ্যমান। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।