| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কারার ঐ লৌহ…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৬ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কারার ঐ লৌহ কবাট
ভেঙে ফেল, কর রে লোপাট
রক্ত-জমাট
শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান।
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ।
ধ্বংস-নিশান
উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
'বিদ্রোহী' কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসনক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্রোহ প্রকাশ করতে কবি নিজেকে 'অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল' বলেছেন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজের শক্তির বহুমাত্রিকতাকে বিভিন্ন অনুষঙ্গে তুলে ধরেছেন। সেগুলো দিয়ে তিনি মানবসমাজে চলমান সমস্ত অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খলতার অবসান করতে চেয়েছেন। যারা মানুষের অধিকার হরণ করে, মানুষকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে তারা মানুষের শত্রু। সেই শত্রুদের তৈরি করা কোনো নিয়ম কবি মানেন না। কারণ সেই নিয়ম মানুষের জন্য অকল্যাণের, অমঙ্গলের। কবি সেই শাসক-শোষকদের ঘৃণা করেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী, বিদ্রোহী। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী কবি তাই দৃঢ়ভাবে শত্রু শোষকের জারি করা বিধি-বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করেন। তিনি তাদের সমস্ত নিয়ম-কানুন-শৃঙ্খলকে অস্বীকার করেন, দ'লে যান। কবি সত্য-সুন্দর ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য শোষক-শাসকদের বিরুদ্ধে জাগরণ ঘটাতে চান। এসব কারণেই কবি নিজেকে 'অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল' বলেছেন।
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতায় বর্ণিত ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহ ও ক্ষোভের সাদৃশ্য রয়েছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে। এ কবিতায় সগর্বে কবি নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবির বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটেছে। কবি তাজা তরুণদের প্রলয় বিষাণ বাজিয়ে ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান। কারাগারে যত নিরপরাধ বিপ্লবীদের আটকে রাখা হয়েছে, কারার কপাট ভেঙে তাদের উদ্ধার করার কথা বলেছেন তিনি। 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কবির সদম্ভ বিদ্রোহ। কবি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল না থামা অবধি তার বিদ্রোহ চলমান থাকবে। তাই বলা যায়, 'বিদ্রোহী' কবিতায় বর্ণিত কবির বিদ্রোহ ও ক্ষোভের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতায় বর্ণিত কবির বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটলেও তার প্রেম ও সৃষ্টির দিকগুলো অনুপস্থিত থাকায় "উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি একই সাথে ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। তিনি একদিকে যেমন ইসরাফিলের শিঙ্খর হুংকার দিয়ে সবকিছুই ধ্বংস করতে চান, তেমনই মহাশঙ্খের ধ্বনির মধ্য দিয়ে সবকিছু নতুন করে সৃষ্টিরও প্রয়াসী তিনি।
উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশ পেয়েছে সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কবির সদন্ড বিদ্রোহ। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবে যেসব বিপ্লবীকে শাসকশ্রেণি কারারুদ্ধ করেছে, তাদের উদ্ধার করতে তরুণদের কারাশৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন কবি। 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও কবি ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে সদন্ড আত্মপ্রকাশ করেছেন। এ কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ শাসকদের প্রতি তার বিদ্রোহ ও ক্ষোভ। তিনি সকল অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী।
উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতায় বর্ণিত কবির বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটলেও এ কবিতার অন্যান্য দিক এখানে অনুপস্থিত। এ কবিতায় কবি একই সাথে প্রেম ও বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। একদিকে তিনি রণতূর্য নিয়ে শাসকশ্রেণির ধ্বংস করবেন, অন্যদিকে অর্ফিয়াসের বাঁশরি বাজিয়ে শান্ত করে তুলবেন পরিবেশকে। যতদিন না বিপন্ন মানবতার আর্তনাদ প্রশমিত হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত কবি থামবেন না। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, "উদ্দীপকটি বিদ্রোহী কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না"- এ মন্তব্যটি যথার্থ।