| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘করিম পুকুরে জাল…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

করিম পুকুরে জাল ফেললে জালে মাছ ছাড়াও শামুক ও ব্যাঙ ধরা পড়ে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস স্তরের সর্বনিম্ন ধাপ ও মৌলিক একক হল প্রজাতি। Earnest Mayr (1942) মতে "প্রজাতি হলো এমন একটি জীবগোষ্ঠীর যারা নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনে এবং উর্বর সন্তান উৎপাদনের সক্ষম "কিন্তু প্রায় অনুরূপ দৈহিক গঠন বিশিষ্ট নিকটতম জীবগোষ্ঠী হতে জনসূত্রে আলাদা।
জীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক প্রথা অনুসারে প্রথমে গণের নাম এবং পরে প্রজাতির পদ ব্যবহার করে দুই শব্দের সমন্বয়ে জীবদের যে নামকরণ করা হয়, তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। এক্ষেত্রে শব্দদ্বয়ের (গণ ও প্রজাতি) অবশ্যই ল্যাটিন হতে হবে। ১৯৫৮ সালে সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস নামকরণের নীতি প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বিপদ নামকরণের জনক বলা হয়।
যেমন: homo sapiens (মানুষ), periplaneta americana (আরশোলা)। এখানে homo গণ অংশ নাম এবং sapiens প্রজাতির অংশ বা প্রজাতিক পদ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণী গুলোর মধ্যে অপ্রতিসম প্রাণীটি হলো শামুক। শামুক হল মালাস্কা পর্বের প্রাণী। নিচে মালাস্কা বৈশিষ্ট্য দেওয়া হল:
১. দেহ নরম, মাংসল ও অখন্ডায়িত।২. সিলোমেট, অধিকাংশ দ্বিপার্শীয় প্রতিসম এবং সুস্পষ্ট মাথা বিশিষ্ট।
৩. ম্যান্টল নামক পাতলা আবরণের দেহ আবৃত। ম্যান্টল পদার্থের খোলক গঠিত হয়। সাধারণত খোলকের মধ্যে প্রাণী অবস্থান করে।
৪. দেহ গহ্বর খুব সংক্ষিপ্ত ও হিমসিল এর পরিণত হয়েছে।
৫. দেহের অঙ্কীয় দেশে মোটা চামড়া প্রশস্ত মাংস পিন্ডের মতো পদে রূপান্তরিত হয়েছে।
৬. পৌষ্টিক নালী প্যাঁচানো; কখনো U আকৃতির। মুখবিবরে কাইটিন নির্মিত একটি রেতি জিহ্বা বা রেডুলা থাকে।
৭. ফুলকা অথবা ফুসফুস অথবা উভয় অংশ, ম্যান্টল দিয়ে শাসন সম্পন্ন হয়।
৮. রক্তে হিমোসায়ানিন আ্যমিবোসাইস কনিকা থাকে।
৯. পৃষ্ঠ দেহে অবস্থিত হৃদযন্ত্র, রক্তনালী ও হিমসিল উভয়ই অবস্থিত অর্থাৎ অর্ধ মুক্ত সংবহনতন্ত্র দেখা যায়।
১০. অধিকাংশ প্রাণীর সমুদ্রে লবণাক্ত পানিতে ও কিছু সদস্য সাধু পানিতে, ডাঙ্গায় ও গর্তে বাস করে।
১১. মলাস্কা জাতীয় প্রাণী বিভিন্ন লিঙ্গ বিশিষ্ট এবং ডিম পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণী গুলোর মধ্যে মাছ এবং ব্যয় একই পর্বের অর্থাৎ কর্ডাটা পর্বের প্রাণী। এরে একই পর্বের প্রাণী হলেও মাছ আ্যকটিনোপটিরিজি শ্রেণীর প্রাণী এবং ব্যাঙ আ্যস্ফিবিয়া শ্রেণীর প্রাণী। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হল:
আ্যকটিনোপটিরিজি প্রাণীর বৈশিষ্ট্য:
১. ত্বক গ্রন্থিময় এবং সাধারণত সাইক্লয়েড ধরনের বা টিনয়েড ধরনের আঁইশ আবৃত। কিছু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আঁইশ নেই।
২. অন্তঃকঙ্কাল অস্থিময়।
৩. মাথার দুপাশে একটি করে ফুলকা রন্ধ্র অবস্থিত যা কানকো দিয়ে আবৃত।
৪. ঐচ্ছিক পাখনা হোমোসার্কাল ধরনের অর্থাৎ পুচ্ছ-পাখনার অংশ দুটি সমান এবং রশ্মিযুক্ত।
৫. বায়ুথলির বা পটকা দেহকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
আ্যস্ফিবিয়া প্রাণীর বৈশিষ্ট্য:
১. গ্রন্থিময় ত্বক বিশিষ্ট, একটা থার্মিক চতুষ্পদী মেরুদন্ডী প্রাণী। লার্ভা অবস্থায় জলচর, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় চলাচল বা স্থলচর।
২. ত্বক মসৃণ, আর্দ্র, গ্রন্থিময়; শ্বসনেও সাহায্য করে।
৩. অগ্রগতি চারটি ও পশ্চাৎ পদে পাঁচটি করে নখরবিহীন আঙ্গুল থাকে।
৪. লার্ভা দশায় ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুস, ত্বক ও মুখ বিবরীয় মিউকাস ঝিল্লির মাধ্যমে শ্বসন ঘটে ৫. হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। দুইটি আ্যট্রিয়া এবং একটি ভেন্ট্রিকল।
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে ব্যাঙ ও মাছ একই পর্বের হলেও শ্রেণীগতভাবে ভিন্ন।