| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘করিম ও রহিমা…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

করিম ও রহিমা চাচাতো ভাইবোন। তাদের উভয়ের ভোট প্রদান, পেশা বাছাই ও ধর্মচর্চার সমান অধিকার রয়েছে। তারা একসাথে একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে; কাজের ধরনও একই। কিন্তু করিমের মজুরি রহিমার চেয়ে বেশি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম- কানুনকে বোঝায়, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। এটি অর্জনের পর রক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরি। স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ ও অটুট রাখার জন্য কতগুলো পদ্ধতি রয়েছে; এগুলোকে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলা হয়। যেমন- আইন, সংবিধানে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থা, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ইত্যাদি
উদ্দীপকে রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে ভোট প্রদানের বিষয়টি
উল্লেখ করা হয়েছে।
নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সকল অধিকার ভোগ করে তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। উদ্দীপকে বর্ণিত করিম ও রহিমার ভোট প্রদানের অধিকার রয়েছে; যা রাজনৈতিক অধিকারের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। ভোট প্রদান ছাড়াও একজন নাগরিকের আরও কিছু রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে।
প্রথমত, আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে যেকোনো নাগরিকের রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের সরকারি চাকরি লাভের অধিকার রয়েছে।
তৃতীয়ত, বিদেশে অবস্থানকালে একজন নাগরিক কোনো সমস্যায় পড়লে নিজ রাষ্ট্রের সাহায্য ও নিরাপত্তা সুবিধা লাভের অধিকার রয়েছে। চতুর্থত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা জনবিরোধী কার্যকলাপের সমালোচনা করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। পঞ্চমত, প্রাপ্তবয়স্ক ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের জাতীয় কিংবা স্থানীয় যেকোনো পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ভোট প্রদানের অধিকার একজন নাগরিকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার। তবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বও কোনো অংশে কম নয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত রহিমা অর্থনৈতিক অধিকার হতে বঞ্চিত হয়েছে।
যে অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক
নিরাপত্তা বিধান করে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন: যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়া এবং ন্যায্য মজুরি লাভ প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত করিম ও রহিমা চাচাতো ভাইবোন। তারা একসাথে একটি ফ্যাক্টরিতে একই ধরনের কাজ করে, কিন্তু করিম রহিমার চেয়ে বেশি মজুরি পায়। অর্থাৎ রহিমা করিমের সমান কাজ করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়; যা অর্থনৈতিক অধিকার হতে বঞ্চিত হওয়াকে নির্দেশ করে। এ বিষয়টি নিবারণের উপায়সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো; প্রথমত, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের যোগ্যতা অনুযায়ী সমান সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, নাগরিকগণ যে সকল মৌলিক অধিকার ভোগ করবে, সেগুলো দেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ সেসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে আদালতের মাধ্যমে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে পারবে।
চতুর্থত, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। এ ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের অধিকার সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়।
পঞ্চমত, যেকোনো অধিকার বঞ্চনা নিবারণের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সজাগ দৃষ্টি। প্রত্যেক নাগরিক নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন হলে কোনো শক্তিই নাগরিকের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমা তার চাচাতো ভাই করিমের সমান কাজ করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এ ধরনের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিবারণ করা যাবে।