| ㅤ | A. Nayan17 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘করিম সাহেব রাষ্ট্রের…’ নটরডেম কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

করিম সাহেব রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মূল দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি নিরপেক্ষভাবে ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
দেশের ভোটাধিকার প্রাপ্ত জনগণ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে যে মতামত প্রদান করে, তাকে গণভোট বলা হয়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কোনো দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মনোভাব, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টিকে বোঝায়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্যদের রাজনৈতিক মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গির রূপ ও প্রকৃতি। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দেশের নাগরিকরা যদি নিয়মিত নির্বাচনে ভোট দেয়, রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেয় এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তবে তা সেই দেশের ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। এটি মূলত একটি সমাজের রাজনৈতিক মনোভাবের প্রতিচ্ছবি, যা জনগণের রাজনৈতিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকের করিম সাহেব রাষ্ট্রের বিচার বিভাগে কর্মরত এবং এই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বজায় রাখার কতগুলো উপায় রয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বিচারকদের কোনো ভয়ভীতি, প্রলোভন বা চাপের ঊর্ধ্বে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষমতাকে বোঝায়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য।
করিম সাহেবের প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রধান উপায়গুলো হলো- বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া, বিচারকদের চাকরির নিশ্চয়তা ও নির্দিষ্ট মেয়াদ প্রদান করা যাতে তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এছাড়া শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ পৃথক রাখা। পাশাপাশি বিচারকদের জন্য সম্মানজনক বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
করিম সাহেবের প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে।
বিচার বিভাগ হলো সংবিধানের অতন্দ্র প্রহরী। সংবিধানের কোনো ধারা বা * বিধানের অস্পষ্টতা দেখা দিলে বিচার বিভাগ তার ব্যাখ্যা প্রদান করে। যদি রাষ্ট্র বা সরকার এমন কোনো আইন প্রণয়ন করে যা সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক, তবে বিচার বিভাগ সেই আইনকে অবৈধ বা বাতিল ঘোষণা করতে পারে। একে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলে।
উদ্দীপকে করিম সাহেব সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। আদালত তখন রিট জারির মাধ্যমে সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন। করিম সাহেব নিরপেক্ষভাবে ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রের অন্য দুই বিভাগ- আইন ও শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করেন।