| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘করিম সাহেব তার…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

করিম সাহেব তার নাতিদের সাথে এক বিপ্লবী মহানায়কের গল্প বলছিলেন। যিনি ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা। নীলকর বণিক ও সামন্ত জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে যিনি ছিলেন সর্বদা সোচ্চার।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয় নওয়াব আবদুল লতিফকে।
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়াদীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।
তিনি আজীবন গণতান্ত্রিক আদর্শ এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, শক্তিশালী বিরোধী দল ব্যতীত গণতন্ত্র অর্থহীন এবং বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী। পাকিস্তানে প্রথম শক্তিশালী বিরোধী দল গঠন এবং গণতন্ত্রের জন্য তাঁর আপসহীন সংগ্রামের কারণে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের করিম সাহেব তিতুমীরের গল্প বলছিলেন।
তিতুমীর ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মহানায়ক এবং একজন বীর যোদ্ধা। তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং নীলকর ও জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলেন। তাঁর প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিপ্লবী মহানায়ক তিতুমীর নীলকর বণিক ও সামন্ত জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি চব্বিশ পরগনা ও নদীয়া জেলায় কৃষকদের সংগঠিত করেন। জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের অন্যায্য করের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ান। তাঁর বিখ্যাত 'বাঁশের কেল্লা' ছিল শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। উদ্দীপকের বীর যোদ্ধার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সংগ্রামের ধরন তিতুমীরের ঐতিহাসিক ভূমিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, করিম সাহেব তিতুমীরের কথাই বলছিলেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ উক্তিটি হলো "নীলকর বণিক ও সামন্ত জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে যিনি ছিলেন সর্বদা সোচ্চার"- উক্তিটি তিতুমীরের সংগ্রামী জীবনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।
তৎকালীন সময়ে বাংলার কৃষকরা নীলকরদের দাদন প্রথা এবং জমিদারদের অতিরিক্ত খাজনা ও ধর্মীয় করের চাপে পিষ্ট ছিল। এই শোষণ ও নিপীড়ন থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করাই ছিল তিতুমীরের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। তিতুমীর জমিদারদের অন্যায্য 'দাড়ির খাজনা' ও অন্যান্য অবৈধ করের তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করেন। উদ্দীপকের উক্তিটি তাঁর এই আপসহীন সংগ্রামের চিত্রই তুলে ধরে, যেখানে তিনি শোষিত ও বঞ্চিত শ্রেণির বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।
তিতুমীরের এই সংগ্রাম কেবল স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার একটি সাহসী প্রয়াস। তাঁর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ এবং বীরত্বপূর্ণ লড়াই পরবর্তীকালের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে শক্তিশালী শক্তির বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। তাই নীলকর ও জমিদারদের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার ভূমিকা বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত।