| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘করিমের দেশের সংবিধান…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৬ – বাংলাদেশের সংবিধান, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

করিমের দেশের সংবিধান একটি লিখিত সংবিধান। এতে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য। সংবিধান সংশোধনের জন্য আইনসভার তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সমর্থন আবশ্যক। এতে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির কোন উল্লেখ নেই।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যে নীতিগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয় তাই রাষ্ট্রীয় মূলনীতি। একটি জনকল্যাণকর ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি গৃহীত হয়। এগুলো হলো- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
উদ্দীপকে করিমের দেশের সংবিধানের সাথে বাংলাদেশ সংবিধানের পার্থক্য দেখাও।
"বাংলাদেশের সংবিধান সুমাইয়ার দেশের সংবিধান অপেক্ষা উত্তম”-বক্তব্যটির সাথে আমি একমত।
উদ্দীপকে সুমাইয়ার দেশের সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের যেসব বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো- লিখিত সংবিধান, সংসদীয় সরকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার। তথাপি উদ্দীপকের সুমাইয়ার দেশের সংবিধান অপেক্ষা বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম। কেননা বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিসমূহ সন্নিবেশিত আছে; যা সুমাইয়ার দেশের সংবিধানে নেই। এই দিক থেকে বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম। বাংলাদেশের সংবিধানের ২য় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ লিপিবদ্ধ করা আছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
বাংলাদেশের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট। এবং বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সহজও নয়, আবার কঠিনও নয়। যা সুমাইয়ার দেশের সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি অপেক্ষা শ্রেয়। এই দিক থেকেও বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম।
তাই উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির উল্লেখ থাকায় বাংলাদেশের সংবিধান উদ্দীপকের সুমাইয়ার দেশের সংবিধান অপেক্ষা উত্তম।