| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কচু, টমেটো ইত্যাদি…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

কচু, টমেটো ইত্যাদি কিছু উদ্ভিদে পাতার কিনারায় এক ধরনের রন্ধ্র থাকে যা দিয়ে উদ্ভিদদেহ হতে পানি তরলাকারে নির্গত হয়। আম, জাম ইত্যাদি উদ্ভিদের পত্রপৃষ্ঠে এক ধরনের রন্ধ্র থাকে যা দিয়ে উদ্ভিদদেহ হতে পানি বাষ্পাকারে নির্গত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
যে কোষ গুলো বিভাজিত হয় তা হলো ভাজক কোষ, আর ভাজক কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুই ভাজক টিস্যু।
মজ্জা যদি দুটি পরিবহণ টিস্যুগুচ্ছের মধ্য দিয়ে রশ্মির ন্যায় (পরিসাইকল পর্যন্ত বিস্তৃত হয় তবে সেই রশ্মির ন্যায় অংশকে মজ্জা রশ্মি বলে। এটি প্যারেনকাইমাটিস্যু) দিয়ে গঠিত। পানি, খন্জি লবন, পরিবহন, গৌণটিস্যু সৃষ্টি করা মজ্জা রশ্মির কাজ।
উদীপকে বর্ণিত ১ম প্রকার রন্ধ পানিপত্ররন্ধ বা হাইডাথোড। কচু, টমোটা গাছের পাতার কিনারায় পচন্ড গরমের দিনে পানির ফোঁটার সারি দেখে এ অঙ্গের অবস্থান জানা যায়। মাটিতে প্রচুর পানি থাকলে এবং আবহাওয়া আদ্র থাকলে এমন ঘটে। বিশেষ পরিস্থিতিতে উদ্ভিদ দেহ থেকে পানি এহ্য রন্ধের মধ্যে দিয়ে পরিত্যক্ত হয় ।শীর্ষে রক্ষীকোষে আবদ্ধ একটি রন্ধ থাকে। রন্ধের নিচে গহ্বর রয়েছে। গহ্বরের নিচে অনেকগুলো অসংলগ্ন কোষ থাকে। এগুলোকে এপিথেম বলে। এপিথেলিয়ামের ঠিক নিচে ট্রাকিডের শেষপ্রান্তে অবস্থিত। মূলজচাপে পানি ট্রাকিডের শেষপ্রান্ত দিয়ে এপিথেলিয়ামের মাধ্যমে বিন্দু আকারে রন্ধপথে জমা হয় । ভোরে এসব জলবিন্দু দেখা যায়। অন্য সময় পানি দ্রুত কম্পায়িত হয়। হাইডাথেও দিয়ে পানি তরল আকারে বের হয়ে যাওয়াকে গাটেশন বলে।
উদ্দীপকের ২য় প্রকার রন্ধপত্ররন্ধের প্রোটন প্রবাহ মতবাদ-বিজ্ঞানী Lexit (1974) এ মতবাদের প্রবক্তা। তিনি পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধের ব্যাপারে ক্যাটায়ন, তথা (পটাশিয়াম আয়নকে (K+) দায়ী করেছেন। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে রক্ষীকোষে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গুকোজ উৎপন্ন হয় এবং এজন্য রক্ষীকোষস্ত কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহৃত হয়। ফলে রক্ষীকোষের pH- বেড়ে যায় এবং অম্লতা হ্রাস পায়। এসময় রক্ষীকোষে সঞ্চিত শ্বেতসার প্রথমে ম্যালিক অ্যাসিডে পরিণত হয়, পরে ম্যালিক অ্যাসিড [R(COOH)₂] বিশ্লিষ্ট হয়ে অ্যানায়ন (ম্যালেট) ও ক্যাটায়নে (H+) পরিণত হয়।
অ্যানায়ন (ম্যালেট/R(COO-)2) রক্ষীকোষে সঞ্চিত থাকে, কিন্তু ক্যাটায়ন [প্রোটন (H+)] রক্ষীকোষ থেকে বেরিয়ে পার্শ্ববর্তী কোষে চলে যায়। এর ফলে রক্ষীকোষের ভেতর ঋণাত্মক আধানযুক্ত হয় এবং pH বেড়ে যায়। এ অবস্থা রক্ষীকোষকে আরো ম্যালিক অ্যাসিড সংশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করে। রক্ষীকোষের ভেতরে সৃষ্ট ঋণাত্মক আধানকে সমতাবিধান করার জন্য পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে নিষ্ক্রিয়ভাবে K+ রক্ষীকোষের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ম্যালেটের সাথে যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম ম্যালেট [R(COOK)2] গঠন করে। এই পটাশিয়াম ম্যালেট যৌগ রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এসময় রক্ষীকোষের রসস্ফীতি চাপ (TP) বেড়ে যায়। রক্ষীকোষের ভেতরের দিকের প্রাচীর অধিক পুরু এবং বাইরের দিকের প্রাচীর তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় রসস্ফীতি চাপে রক্ষীকোষের বাইরের দিকে স্ফীত হয়ে ধনুকের মত বেঁকে যায় ফলে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
রাতের বেলা বিপরীতমুখী ঘটনা ঘটার কারণে রক্ষীকোষে ম্যালিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পায়। ম্যালিক অ্যাসিড CO₂ ত্যাগ করে পাইরুভিক অ্যাসিডে পরিণত হয় যা কতগুলো ধারাবাহিক বিক্রিয়া শেষে অদ্রবণীয় শ্বেতসারে রূপান্তরিত হয়ে কোষে সঞ্চিত হতে থাকে। এর ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ হ্রাস পেতে থাকে এবং পানি দ্রুত রক্ষীকোষ থেকে পার্শ্ববর্তী কোষসমূহে বের হয়ে আসে। এতে রক্ষীকোষ শিথিল হয়ে পত্ররন্ধ্রকে বন্ধ করে দেয়।
বিজ্ঞানী Noggle এবং Fritz(1976) প্রোটন প্রবাহ মতবাদের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে তা সমর্থন করেন।