| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কেরামত আলী টাকা…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কেরামত আলী টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। অধিক মুনাফার আশায় জীবনের জমানো সমস্ত টাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে। সেখান থেকে প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা পায়। একসময় এই টাকাই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যায়। প্রতারিত হয়ে টাকার শোকে কেরামত আলী পাগল হয়ে পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে অকালে মৃত্যুবরণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ধনকুবের হচ্ছে জগৎশেঠ।
"সে নবাবি পেলে প্রকারান্তরে আপনারাইতো দেশের মালিক হয়ে বসবেন।"- শওকতজঙ্গের নবাব হওয়াকে কেন্দ্র করে ঘসেটি বেগম এ উক্তিটি করেছেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে তাঁর আপনজনেরাই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বিশেষ করে সিরাজের আপন খালা ঘসেটি বেগম সিরাজের নবাব হওয়াকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি - চেয়েছিলেন শওকতজঙ্গ নবাব হবে। তাই সিরাজের বিরুদ্ধে তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। শওকতজঙ্গকে নবাব বানাতে পারলে দরবারের অন্যরা কী কী সুবিধা পাবে সেটি বলতে গিয়েই ঘসেটি বেগম আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।
উদ্দীপকের কেরামত আলীর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের উমিচাঁদ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উমিচাঁদ একজন লোভী ব্যক্তি। টাকার জন্য সে ছিল উন্মাদ। দালালি করে সে প্রচুর টাকার মালিক হলেও শেষপর্যন্ত ক্লাইভের কূটকৌশলের কাছে সে বোকা বনে যায় এবং প্রতারিত হয়।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, কেরামত আলী টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। টাকার লোভে সে তার সমস্ত টাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ উধাও হয়ে গেলে প্রতারিত কেরামত আলী টাকার শোকে পাগল হয়ে যায়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উমিচাঁদের ক্ষেত্রেও এ পরিণতি লক্ষ করা যায়। ইংরেজরা যুদ্ধে জয়ী হলে উমিচাঁদ বিশ লক্ষ টাকা পাবে বলে দলিল করে। কিন্তু কূটকৌশলী ক্লাইভ সাদা ও লাল দুই রকমের জাল - দলিল করে উমিচাঁদের সাথে প্রতারণা করে। যুদ্ধ শেষে প্রতিশ্রুত টাকার শোকে উমিচাঁদ পাগল হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কেরামত আলীর সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের উমিচাঁদ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
মূল ভাবার্থের দিক থেকে "উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেনি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কাহিনি উন্মোচিত হয়েছে যুদ্ধ দিয়ে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার যুদ্ধের চিত্র ও পরিণতি নিয়ে নাট্যকাহিনি গড়ে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়- নিজেদের লোকের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে বহিঃশক্তির কাছে নবাবের পতন ঘটেছে।
উদ্দীপকে টাকার পাগল কেয়ামত আলীর কথা তুলে ধরা হয়েছে, যে টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। টাকার জন্য সে সবকিছু করতে পারে। টাকার জন্যই সে তার জীবনের জমানো সমস্ত টাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা পেতে চায়। হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে গেলে প্রতারিত কেরামত আলী টাকার শোকে পাগল হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি কেবল 'সিরাজউদ্দৌলা নাটকের উমিচাঁদে লোভী মানসিকতা ও করুণ পরিণতির দিকটিকে ধারণ করেছে, যা উক্ত নাটকে একটি খণ্ডিত ও গৌণ দিক।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের মধ্যে কেবল উমিচাঁদ চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য উঠে এসেছে উদ্দীপকে। মূলত নাটকের বিষয় ও প্রেক্ষাপট অনেক বেশি বিস্তৃত। সেখানে মুখ্য করে দেখানো হয়েছে আপন মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে কীভাবে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরাজয় ঘটেছে। পাশাপাশি ফুটে উঠেছে দেশপ্রেমিক বীর যোদ্ধাদের স্বদেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ। সেগুলোর কোনো কিছুই উদ্দীপকে নেই। সার্বিক পর্যালোচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেনি।