| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কেউ ছালটা ছাড়িয়ে…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – জীবন ও বৃক্ষ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে। পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ। কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক….. দাঁত ভালো থাকে। কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন। বলেন- নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না। কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না। হঠাৎ একদিন একটা নূতন ধরনের লোক এলো। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৪
➤ অনুভূতির কান দিয়ে বৃক্ষের গান শুনতে হবে।
➤ মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।"- বলতে মানুষের দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে বোঝানো হয়েছে।
➤ সাধারণভাবে আত্মার বৃদ্ধি বলতে মানুষের মানসিক অবস্থা ও আত্মিক উন্নতিকে বোঝায়। শারীরিকভাবে মানুষের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবস্থারও উন্নতি ঘটাতে হয়। আস্থার বৃদ্ধির জন্য মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়। কারণ তা তৈরি পাওয়া যায় না। আম্মা হচ্ছে সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের পরিপক্ষতা। বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও গভীর অনুভবের মাধ্যমেই মানুষের আত্মার শ্রীবৃদ্ধি হয়। আর তা হলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণতা অর্জন করে। এ কারণেই বলা হয়েছে, মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।
সারকথা: মানুষের দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়িক বৃদ্ধিও প্রয়োজন। প্রচুর দুঃখ-সুখ, আনন্দ-বেদনার দ্বারা অত্তরে পরিপক্ষতা আসে। • আর তখন আত্তিক বৃদ্ধি হয়।
➤ উদ্দীপকের নিমগাছটি 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের ক্ষেত্রে অনেকাংশে প্রাসঙ্গিক এ কথা বলা যায়।
➤ বৃক্ষ ফুলে-ফলে খুঁজে পায় নিজের পরিপূর্ণতা। নিজেকে অন্যের সেবায় নিয়োজিত করে বৃক্ষ পায় সার্থকতা। মানবজীবনের সার্থকতা প্রতিষ্ঠায় আমাদের বৃক্ষের মতো হতে হবে।
➤ উদ্দীপকে নিমগাছের বর্ণনা রয়েছে। এ গাছের ছাল, পাতা, কচি ডাল সবই মানুষ তাদের নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে ও উপকৃত হচ্ছে। নিমগাছ এ উপকারী দিকগুলোর কারণে পেয়েছে সবার প্রশংসা। তার প্রাপ্তিই তার সার্থকতা। 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধেও লেখক বৃক্ষের নানা গুণ ও উপকারী দিকগুলোর কথা বলেছেন। তাই তিনি বৃক্ষকে জীবনের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। প্রাবন্ধিকের মতে নিজেকে উজাড় করে মানুষ ও প্রকৃতির সেবা করাই বৃক্ষের অন্যতম প্রধান কাজ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নিমগাছটি 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের সঙ্গে অনেকাংশে প্রাসঙ্গিক।
সারকথা: জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে বৃক্ষের গুণ ও উপকারী দিকগুলো বর্ণনা করা হয়েছে, যা উদ্দীপকে বর্ণিত নিমগাছের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক।
➤ পরার্থে আত্মনিবেদিত হওয়ার বিষয়টিই হলো উদ্দীপকের মূল বক্তব্য।
➤ নিজের জন্য বেঁচে থাকা জীবনের সার্থকতা নয়। অন্যের জন্য নিবেদিত হওয়ার মাঝেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা। এই শিক্ষা বৃক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করে আমাদের জীবন সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে হবে।
➤ উদ্দীপকে নিমগাছের বর্ণনায় বৃক্ষের উপকারী দিকগুলোর পরিচয় পাওয়া যায়। নিমগাছ নিজেকে প্রস্ফুটিত করেছে নিজের জন্য নয়। অন্যের প্রয়োজনে নিজেকে নিবেদিত করার মাঝেই নিমগাছ নিজের সার্থকতা খুঁজে পায়। কোনো রকম প্রতিদানের প্রত্যাশা না করেই নিমগাছ মানুষের উপকার করে। 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধেও লেখক বৃক্ষের উপকারী দিকের বর্ণনা দিয়েছেন। বৃক্ষ ফুলে- ফলে পরিপূর্ণতা পায়। অন্যকে দান করে বৃক্ষ খুঁজে নেয় তার সার্থকতা। সেখানে থাকে না বৃক্ষের কোনো ধরনের স্বার্থপরতা। বৃক্ষের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে বিকশিত, বিবেকবান ও পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার আহ্বান রয়েছে প্রবন্ধে।
➤ 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক বলতে চেয়েছেন নিজেকে সম্পূর্ণরূপে পরিপূর্ণ করাই বৃক্ষের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। নিঃস্বার্থভাবে পরের জন্য নিবেদিত হওয়ার মাঝেই বৃক্ষের সার্থকতা। আর পরার্থে আত্মনিবেদিত হওয়ার এই মূল চেতনা উদ্দীপকের নিমগাছের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
সারকথা: জীবনকে মহত্ত্বের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের বৃক্ষের মতো পরার্থে আত্মনিবেদিত হতে হবে। এ বিষয়টিই উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধের মূল বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।