| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”কেউ মালা, কেউ…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়
তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়
যাওয়া কিংবা আসার বেলায়
জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
'বিলাসী' গল্পে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নাম উল্লেখ আছে।
"গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।"- কথাটি 'বিলাসী' গল্পের অকৃতজ্ঞ লোকদের এবং মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি লেখকের ব্যঙ্গাত্মক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
'বিলাসী' গল্পে লেখক 'সুনাম' শব্দটিকে ব্যঙ্গার্থে ব্যবহার করেছেন। সহপাঠীদের খাওয়ানো, স্কুলের বেতনের টাকা হারিয়ে যাওয়া এবং বই চুরি হয়ে যাওয়ার নাম করে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে টাকা আদায় ইত্যাদির মাধ্যমে তার মানবীয় গুণাবলির পরিচয় পাওয়া যায়। তৎকালীন সমাজের সংকীর্ণমনারা তা মনে রাখেনি। তাই লেখক মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে সমাজের অকৃতজ্ঞ -লোকদের নির্দেশ করেছেন।
উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটিকে নির্দেশ-করা হয়েছে।
'বিলাসী' গল্পের জাতিভেদ প্রথার স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে সাপুড়েকন্যা বিলাসীকে বিয়ে করা এবং তার হাতে ভাত খাওয়ার অপরাধে মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত হতে হয়। মূলত বর্ণবিভক্ত সমাজের সংকীর্ণতাই তার এমন পরিণতির কারণ।
উদ্দীপকে মানবধর্মের কথা বলা হয়েছে। একেক ব্যক্তি একেক ধর্মের অনুসারী হতেই পারে, তাতে ক্ষতি নেই। সবার একটাই-পরিচয়, আর তা হলো- তারা সবাই মানুষ। কারণ সবার জন্ম-মৃত্যু-রহস্য এক ও অভিন্ন। জন্ম-মৃত্যুর মতো সত্যের কাছে কোনো জাতিভেদের অস্তিত্ব থাকে না। 'বিলাসী' গল্পে বিলাসী অসুস্থ-মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় এর প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। সে জাতিগত বিভেদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। কিন্তু সমাজ এ বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় না। কারণ বিলাসী-নিচু জাতের, আর মৃত্যুঞ্জয় উঁচু জাতের। এ কারণেই বিলাসীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। শুধু জাতিগত বৈষম্যের কারণেই বিলাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়, তাদেরকে সমাজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এভাবে উদ্দীপকটি 'বিলাসী'-গল্পের জাতিগত বিভেদের দিকটিকে নির্দেশ করে।
কেবল জাতিভেদের দিকটি তুলে ধরায় উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।
'বিলাসী' গল্পে গল্পকার বর্ণপ্রথার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। সেখানে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের মানবিক প্রেমের সম্পর্কও সেই সমাজের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে বারবার। সংকীর্ণ সেই সমাজ তাদের সম্পর্ককে মেনে নেয়নি, উপরন্তু অন্নপাপের দোহাই দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করেছে।
উদ্দীপকে জাতিভেদের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্ম আলাদা হলেও সবার পরিচয় একটাই, আর তা হলো- তারা সবাই মানুষ। কারণ জাতিভেদ সৃষ্টি করা হলেও জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই ভেদাভেদের কোনো স্থান নেই। 'বিলাসী' গল্পে জাতিভেদের এই রূপটিই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকলে বিলাসী সেবা-যত্ন করে তাকে সুস্থ করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভালোবেসে বিয়ে করে। সমাজ এই বিয়ে মেনে নিতে পারে না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সামান্য সাপুড়ের মেয়ে। ফলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকের মূলভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও 'বিলাসী' 'গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার ষড়যন্ত্র, মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজ ছেড়ে চলে যাওয়া, গ্রামবাসীর অমানবিকতা, মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়ে জীবন, সাপের কামড়ে তার মৃত্যু, স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাসীর মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
উদ্দীপকে ধর্মের দোহাই দিয়ে জাতিভেদ সৃষ্টি না করার কথা বলা হয়েছে। এখানে জন্ম-মৃত্যুর কাছে সবাই সমান এ কথা বলা হয়েছে। 'বিলাসী' গল্পে জাতিভেদের রূপটি স্পষ্ট হয়ে উঠলেও এ গল্পের বড় শিক্ষা 'হলো অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ও মানবিক হওয়া। তবে গল্পের অন্যান্য বিষয় যেমন- তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজের নানা অসংগতি ইত্যাদি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের আংশিক ভাব ধারণ করেছে।