| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই কৃতিত্ব সারা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের। কিন্তু এই কৃষকরা বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম পায় না। অথচ মধ্য-স্বত্বভোগকারীরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই লাভবান হয়। প্রকৃতপক্ষে কৃষকরা লাভবান না হলে কৃষির অব্যাহত উন্নয়ন ধরে রাখা সম্ভব না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
তথ্য অধিকার বলতে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কোনো নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে বোঝায়।
মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং যা সরকারের নিকট অলঙ্ঘনীয়। একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় কিংবা সংবিধান স্থগিত ও সংশোধন করা ব্যতীত কোনো সরকারই এ মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। রাষ্ট্রীয় চেতনাবোধ থেকে এ মৌলিক অধিকার বিকাশ লাভ করে এবং রাষ্ট্রের সংবিধান হলো মৌলিক অধিকারের উৎস।
উদ্দীপকে কৃষকেরা অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের কৃষকেরা কৃতিত্বের সাথে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করলেও তারা বাজারে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মজুরি পায় না। অথচ মধ্যস্বত্বভোগকারীরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই লাভবান হয়। এভাবে কৃষকেরা তাদের ন্যায্য অর্থ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যা অর্থনৈতিক অধিকারের খর্বতাকে নির্দেশ করে। এ অধিকার কৃষককে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করতে পারত। পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোকে যে অধিকার ব্যক্তির অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলা হয়। বাংলাদেশের কৃষকদের ন্যায্যমূল্য অপ্রাপ্তি তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধানের অন্তরায়। তাছাড়া কৃষি তাদের পেশা হওয়ায় এ প্রাপ্ত দ্রব্যমূল্যেই তাদের কর্মের মজুরির ন্যায়। তাই বলা যায়,' উদ্দীপকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে পণ্যের সঠিক দাম না পাওয়া কৃষকদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়াকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে কৃষকদের পণ্যের সঠিক মূল্য অপ্রাপ্তির মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক অধিকার বঞ্চনার কথা আলোচিত হয়েছে। কৃষকদের অর্থনৈতিক অধিকার একটি স্বীকৃত ও আইনগত অধিকার। যেহেতু কৃষকদের বিকাশ ও সুসভ্য সমাজজীবনের জন্য অন্য সবার মতই তাদের অধিকার অত্যাবশ্যক। তাই তাদের অধিকার রক্ষায় 'অধিকারের রক্ষাকবচ' এর দ্বারস্থ হতে হবে। আইন হচ্ছে 'অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। সরকার কৃষকদের পণ্যের ক্রেতা হয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। মধ্যস্বত্বভোগীশ্রেণি কৃষকদের ন্যায্য মূল্য অপ্রাপ্তির একটি অন্যতম কারণ। এ মধ্যস্বত্বশ্রেণির দৌরাত্ম্য হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। সরকার কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধানে কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান করতে পারে। আবার কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় বাজারে প্রতিনিধিদল গঠন করা যেতে পারে। যেসব কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেসব চিহ্নিত করে সমাধানের ব্যবস্থা নিয়ে ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে কৃষকদের স্বার্থরক্ষা করা যেতে পারে। তাছাড়া সুশাসনের অধীনে আইনের শাসন নিশ্চিত করা গেলে কৃষকশ্রেণিসহ সবার জীবনে নিরাপত্তা তথা অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিধান হবে। এভাবেই কৃষকদের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।