| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘খানা টেবিলের সামনে…’ a – গন্তব্য কাবুল, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

খানা টেবিলের সামনে গিয়ে যা দেখলুম, তাতে আমার মনে আর কোনো সন্দেহ রইল না যে, আমার ভৃত্য আগা আবদুর রহমান এককালে মেসের চার্জে ছিলেন। ডাবর নয়, ছোটখাটো একটা গামলাভর্তি মাংসের কোরমা বা পেঁয়াজ-ঘিয়ের ঘন কাথে সেরখানেক দুম্বার মাংস- তার মাঝে মাঝে কিছু বাদাম কিশমিশ লুকোচুরি খেলছে, এক কোণে একটি আলু অপাড়ন্তেয় হওয়ার দুঃখে ডুবে মরার চেষ্টা করছে। আরেক প্লেটে গোটা আন্টেক ফুল বোম্বাই সাইজের শামী-কাবাব। বারকোশ থালায় এক ঝুড়ি কোফতা-পোলাও আর তার ওপরে বসে আছে একটি আস্ত মুর্গি-রোস্ট।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৬
জলন্ধরে শিলওয়ার বানাতে সাড়ে চার গজ কাপড় লাগে।
➤ "ব্রাদারলি ডিভিশন করে আলাকার্ত ভোজন" বলতে লেখক খাদ্য তালিকা অনুযায়ী সবকিছু মিলিয়ে যার যা খুশি খাওয়া বুঝিয়েছেন।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় হাওড়া স্টেশন থেকে কাবুলের উদ্দেশে যাত্রাকালে সেখানে এক ফিরিঙ্গির সঙ্গে লেখকের দেখা হয়। ওই স্টেশনে থাকা গাড়িতে উঠতে গেলে ফিরিঙ্গি লেখককে হাঁক দিয়ে জানায় "এটা ইয়োরোপিয়ানদের জন্য।" আলাপচারিতার একপর্যায়ে সে তার ফিয়াসের দেওয়া উৎকৃষ্ট ডিনার লেখককে খাওয়ানোর জন্য জোর করে। খানিকক্ষণ তর্কাতর্কির পর স্থির হয় যে তারা সবকিছু মিলিয়ে দিয়ে যার যা খুশি খাবে। এই বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
সারকথা: একে অন্যের খাবার মিলিয়ে খাদ্য তালিকা অনুযায়ী যার যা । খুশি খাওয়াকে লেখক 'ব্রাদারলি ডিভিশন করে ভোজন' বলেছেন।
➤ উদ্দীপকে 'গন্তব্য কাবুল' রচনার জনৈক ফিরিঙ্গি ও লেখকের রাতের খাবারের তালিকা অংশের প্রতিফলন ঘটেছে।
➤ মানুষের মধ্যে আলাপচারিতায় অল্প সময়ে কারও সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, পরম আত্মীয় বলে মনে হতে পারে।
➤ উদ্দীপকে ভৃত্য আগা আবদুর রহমান তার মনিবের জন্য খাবার টেবিলে গামলাভর্তি মাংসের কোরমা, প্লেটে বোম্বাই সাইজের শামি-কাবাব, বারকোশ থালায় কোফতা-পোলাও, আস্ত মুরগির রোস্ট পরিবেশন করেন। তার মনিবের জন্য রাখা এসব খাবারের সঙ্গে 'গন্তব্য কাবুল' রচনার জনৈক ফিরিঙ্গি ও লেখকের রাতের খাবারের তালিকা অংশের মিল রয়েছে। ফিরিঙ্গির। সঙ্গে লেখকের আলাপচারিতার পর সে লেখককে তার ফিয়াসের দেওয়া ডিনার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় এবং শিককাবাব, ঢাকাই পরোটা, মুরগি মুসল্লম, আলু-গোশত প্রভৃতি খাবার বের করে। একই রকম খাবার লেখকও জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে নিয়ে এসেছেন। রাতের খাবারের এই বিষয়টিই উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় হাওড়া স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে লেখক ও ফিরিঙ্গি রাতে যেসব খাবারের আয়োজন করেছিলেন, সেই • দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের খাবারের আয়োজনটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ "উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার মূল বিষয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ ভ্রমণপিপাসু মানুষ সাধারণত আমুদে স্বভাবের হয়। তারা খুব সহজেই অন্যের সঙ্গে মিশতে পারে, বন্ধু হতে পারে।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় লেখক যাত্রা শুরু করে হাওড়া স্টেশনে তার সঙ্গে এক ফিরিঙ্গির পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা রাতের খাবার দুজনে মিলে খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাওয়ার জন্য রাজি হন। কাকতালীয়ভাবে তাদের উভয়ের বহন করা খাবারই ছিল কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে কেনা। খাবারের এই বিষয়টি উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ সেখানেও রাতের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। এই দিকটি ছাড়া 'গন্তব্য কাবুল' রচনার অন্য কোনো বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় ইউরোপিয়ানদের জন্য নির্ধারিত গাড়ি, তাদের কথা বলার ধরন, ফিরিঙ্গির সঙ্গে লেখকের শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ যাত্রা, ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত, সাম্য ও মানবিকতা, যাত্রাপথের বিবরণ, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় হাওড়া স্টেশন থেকে যাত্রা করার সময় রাতের খাবারের প্রসঙ্গটিই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে, অন্য কোনো বিষয় উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।