| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘খেয়াল-খুশিতে কাটি অরণ্য…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

খেয়াল-খুশিতে কাটি অরণ্য রচিয়া অমরাবতী
যাহারা করিল ধ্বংস সাধন পুনঃচঞ্চলমতি,
জীবন-আবেগ রুধিতে না পারি যারা উদ্ধত-শির লঙ্ঘিতে গেল হিমালয়, গেল শুষিতে সিন্ধু-নীর।
নবীন জগৎ সন্ধানে যারা ছুটে মেরু-অভিযানে, পক্ষ বাঁধিয়া উড়িয়া চলেছে যাহারা ঊর্ধ্বপানে।
তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
প্রাবন্ধিক কালাপাহাড়ের অসিতে তারুণ্য দেখেছেন।
যৌবনের মাতৃরূপ বলতে লেখক যৌবনের সেবাধর্মী কোমল রূপকে বুঝিয়েছেন।
যৌবনের শক্তি ঝড়ের মতো বিধ্বংসী। পৃথিবীর মিথ্যার সমস্ত আগল ভেঙে সত্যের স্বরূপ উন্মোচন এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠাই এ শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন কোমল রূপেও আবির্ভূত হয়। সেবাপরায়ণতা, দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে, অসহায়কে সাহস জোগায়, দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্তের পাশে থেকে রাত জেগে সেবা করে। মূলত এই রূপকেই লেখক যৌবনের মাতৃরূপ বলেছেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যৌবনের প্রাণশক্তির দিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি দুরন্ত দুর্বার যৌবনের প্রশস্তি উচ্চারণ করেছেন। কারণ যৌবন হলো অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার।
উদ্দীপকে যৌবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। যৌবন চাইলে কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে, আবার ধ্বংসও করতে পারে। যৌবনকাল চঞ্চলতায় ভরপুর হলেও এটা ক্ষমতা রাখে হিমালয় লঙ্ঘন করতে কিংবা নতুন জগৎ তৈরি করতে। প্রাণোদীপ্ত এই যৌবনের শক্তির কথা 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন। লেখকের মতে দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্যম, অপরিসীম ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সংস্কারের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় সমাজ প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্ত জীবনের পথে। তাই কবি যৌবনের শক্তিকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তাই বলা যায়, যৌবনের এই শক্তির জয়গান উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
উদ্দীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের ভাববস্তু আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি দুরন্ত দুর্বার যৌবনের প্রশান্তি উচ্চারণ করেছেন। যৌবনশক্তিকে কবি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সমস্ত জীর্ণ পুরানো সংস্কারকে ধ্বংস করে মনের মতো নতুন জগৎ রচনার সাধনায় অগ্রসর হতে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক যৌবনের গতিশীলতার কথা বলেছেন। অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে এগিয়ে যায় সমাজের প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় জীবনের পথে। আর বিপন্ন মানবতার পাশাপাশি সে দাঁড়ায় সেবাব্রতী ভূমিকা নিয়ে। অন্যদিকে তিনি রক্ষণশীলতা, জড়তা, সংস্কারাচ্ছন্নতা ও পশ্চাৎপদময় বার্ধক্যের কথা বলেন, যা বাধা হয়ে দাঁড়ায় জীবনের প্রাণবন্ত অগ্রগতির পথে। বার্ধক্যের এই স্থবিরতার দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
বার্ধক্যকে ও যৌবনকে যে বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না বরং এটা মনের ব্যাপার সেটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু। উদ্দীপকে যৌবনের জয়গান করা হলেও আলোচ্য প্রবন্ধে আলোচিত বার্ধক্যের স্থবিরতার দিকটি অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।