| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘খিজির মিয়া একজন…’ ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

খিজির মিয়া একজন বয়স্ক মানুষ। অনেকদিন ধরে তিনি চুপচাপ অন্যায় দেখে যাচ্ছিলেন, কিছুই বলতেন না। তিনি ভাবতেন, ‘বয়স হয়েছে, আমি আর কী-ই বা করতে পারব?’ একদিন কয়েকজন প্রভাবশালী লোক গ্রামের এক গরিব কৃষকের জমি জোর করে দখল করতে আসে.। তখন মিঠু বলে, ‘চাচা, চলো কিছু একটা করতে হবে।’ মিঠুর কথায় খিজির মিয়ার ভেতরের যুবক বয়সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদের বিভিন্ন সাহসী ঘটনা ভেসে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে একটা শক্তি অনুভব করে তিনি পুনরায় সাহসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। গলায় জোর নিয়ে মিঠুকে বলেন, ‘চল ভাতিজা, চুপ থাকলে চলবে না আর।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৫
জমিদার ও কৃষকদের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণির নাম জোতদার।
"নিজের দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাবে বলে ইতস্তত করে" বলতে কপিলদাসের বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা ঢাকতে ইতস্তত করাকে বোঝানো হয়েছে।
কপিলদাস মুর্মুর যৌবনকাল ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। সে তার নাতিদের কাছে তার বাঘ শিকারের গল্প বলে। তার নাতিরা আগ্রহভরে শোনে সেই গল্প। হঠাৎ ঝোপঝাড় থেকে একটা জন্তু বের হওয়া পর্যন্ত বলে সে থেমে যায়। কেননা, জন্তুটি ছিল একটি শিয়াল। কপিলদাস শিয়াল দেখে ভয় পেয়েছে শুনলে নাতিরা হাসাহাসি করবে ভেবে নিজের দুর্বলতা ঢাকতে সে ইতস্তত করে। আলোচ্য বাক্য দ্বারা এ বিষয়টিকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের খিজির মিয়ার সঙ্গে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের বৃদ্ধ কপিলদাসের প্রতিবাদের সাদৃশ্য রয়েছে।
'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে প্রকাশ পেয়েছে বৃদ্ধ কপিলদাসের সশস্ত্র সংগ্রামের দিকটি। নিজেদের বসতভিটা থেকে উন্মুলিত হওয়ার আশঙ্কা যখন তীব্রতর রূপ ধারণ করে তখন বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া কপিলদাস অমিত সাহসে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের খিজির মিয়াও বৃদ্ধ বয়সে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। নিরীহ গরিব কৃষকের জমি অবৈধভাবে দখল করতে এলে খিজির মিয়া যুবক বয়সের প্রতিবাদের কথা স্মরণ করে নিজের মধ্যে সাহস সঞ্চার করেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝুঁপিয়ে পড়েন। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও কপিলদাস সাঁওতাল জোতদার কর্তৃক বসতভিটা থেকে উৎখাত হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। বৃদ্ধ কপিলদাস যুবক বয়সের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে সাহস সঞ্চার করে। যুবক। সন্তানদের প্রতীক্ষা না করে তির হাতে সশস্ত্র সংগ্রামে ধাবিত হয় বৃদ্ধ কপিলদাস। এভাবে উদ্দীপকের খিজির মিয়ার সঙ্গে বৃদ্ধ কপিলদাসের সংগ্রামের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের খিজির মিয়া এবং কপিলদাস উভয়ই বৃদ্ধ বয়সে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ায়, "লড়াইয়ের কোনো বয়স নেই"- এ উক্তিটি যথার্থ।
'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে বর্ণিত হয়েছে বৃদ্ধ সাঁওতাল কপিলদাসের সশস্ত্র লড়াইয়ের ইতিবৃত্ত। ভূমির অধিকার নিয়ে সাঁওতালদের রয়েছে রক্তে রঞ্জিত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কপিলদাসের আচরণে ভূমির অধিকার রক্ষায় সেই সশস্ত্র সংগ্রামের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের খিজির মিয়ার আচরণে বৃদ্ধ বয়সে লড়াইয়ের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। বার্ধক্যের জন্য চোখের সামনে সংঘটিত অনেক অন্যায় সহ্য করলেও গরিব কৃষকের ভূমি দখলের বিষয়টি তাকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং তিনি প্রতিবাদে অংশ নেন। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও লেখক বৃদ্ধ কপিলদাসের সাহসিকতা প্রকাশ করেছেন। বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কা বৃদ্ধ কপিলদাসকে সশস্ত্র সংগ্রামে ধাবিত করে।
উদ্দীপকের খিজির মিয়ার কর্মকাণ্ডে বৃদ্ধ বয়সের লড়াইয়ের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে যা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে বর্ণিত বৃদ্ধ কপিলদাসের সশস্ত্র সংগ্রামের দিকটি নির্দেশ করে। এ গল্পে কপিলদাস একজন বৃদ্ধ। সমাজের লোক তাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে। বয়সের ভারে তার অনেক কিছুই মনে থাকে না। সংগ্রামের মানসিকতায় সে দৃঢ়। জোতদাররা তাদের ভিটে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করলে সে একাই তির হাতে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এদিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।