| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘খলিল : পৃথিবীর…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

খলিল : পৃথিবীর কিছু মানুষ আল্লাহ তায়ালার নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি সন্দেহ পোষণ করে।
আবিদ
সন্দেহ পোষণকারীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা চ্যালেঞ্জের ঘোষণা দিয়েছেন।
খলিল : সঠিক বলেছেন, এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। আবিদ : জি হ্যাঁ, ঐ ব্যর্থ সন্দেহবাদীদের জন্য ভয়ংকর পরিণতি
অপেক্ষা করছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
(الحجارة )আল-হিজারাহ অর্থ পাথর ।
“আর আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টনকারী।” আয়াতটি সূরা আল- বাকারার ১৯নং আয়াতের শেষাংশ।
মূলত এ অংশে কাফিরদের পরিবেষ্টনকারী বলে মুনাফিকদের বোঝানো হয়েছে। কারণ আয়াতের শুরুতে মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। মুনাফিকরা ইমানের মিথ্যা দাবিদার হওয়ার ভান করে। - ফলে তারা সবসময় দুঃসহ মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে তারা সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত, শঙ্কিত এবং আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। কোনো কোনো সময় তাদের রূপ প্রকাশ হয়ে পড়ে। একদিকে স্বার্থ চরিতার্থ করার দুর্দমনীয় লোভে উন্মত্ত; অন্যদিকে ভয়। এরই মাঝখানে তারা থাকে দোদুল্যমান। যখন বিপদের আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন আত্মরক্ষার ব্যর্থ চেষ্টায় থাকে ব্যস্ত। কিন্তু বজ্রনিনাদ এবং মৃত্যুর আক্রমণ থেকে কানে আঙুল ঢুকিয়ে যেমন আত্মরক্ষা করা যায় না, ঠিক তেমনিভাবে মুনাফিকগণ আল্লাহ তায়ালার শাস্তি থেকেও রক্ষা পায় না। কেননা আল্লাহ পাক সর্বশক্তিমান সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। যেকোনো সময় মুনাফিকদের পাকড়াও করতে পারেন। সুতরাং বলা যায়, আল্লাহর শাস্তি হতে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় মুনাফিকদের নেই।
খলিল ও আবিদের সংলাপের বিষয়বস্তু হলো কুরআন মাজিদের সত্যতার প্রশ্নে কাফিরদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার চিরস্থায়ী চ্যালেঞ্জ ঘোষণা-
কাফির, মুশরিক, ইহুদি এমনকি মুনাফিকরাও মহানবি (সা.)-এর রিসালাত ও কুরআন মাজিদ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করত এবং সংশয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাত । তারা বলত, কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী নয় বরং মুহাম্মদ (সা.)-এর নিজের রচিত। তাই আল্লাহ তাদের ভ্রান্ত মত ও সন্দেহ খণ্ডনের জন্য আল-কুরআন যে আল্লাহর বাণী এবং এটি রাসুল (সা.)-এর অদ্বিতীয় মুজিযা তা প্রকাশার্থে আল্লাহ তায়ালা,
আয়াত ৩টি অবতীর্ণ করেছেন। আজ পর্যন্ত পবিত্র কুরআনের এ চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়া কারও পক্ষেই * সম্ভব হয়নি এবং হবেও না।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত খলিল ও আরিদ সূরা আল- বাকারার ১২৩ এবং ২৪নং আয়াত নিয়ে সংলাপ করছিল। এই দুটি আয়াতের বিষয়বস্তু ছিল কাফিরদের কাছে আল্লাহ তায়ালার চিরস্থায়ী চ্যালেঞ্জ এবং কাফিরদের আখিরাতের আজাব সম্পর্কে সতর্ককরণ।
উদ্দীপকে আবিদের বক্তব্যগুলো পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারার অংশবিশেষ। আবিদের প্রথম বক্তব্যে পবিত্র কুরআনের প্রতি সন্দেহ পোষণকারীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে সূরা বাকারার ২৩নং আয়াতে। মহান আল্লাহ বলেন, “আর আমি আমার বান্দা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর যা নাজিল করেছি তার ওপর যদি তোমাদের সন্দেহ হয় তাহলে তার অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সব সহযোগিকে ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” (সূরা বাকারা : ২৩)
এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদের সত্যতার প্রশ্নে সব দেশের, সব কালের কাফিরদের কাছে চিরস্থায়ী চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন। কুরআনুল কারিম আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে। এ মহাগ্রন্থ সব রকমের বিতর্ক ও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। এটি এক অসাধারণ আসমানি গ্রন্থ। এর বিষয়বস্তু অলৌকিক, উপস্থাপনা অন্যান্য শব্দচয়ন ও রচনাশৈলী অভিনব ।
এবং সূরা বাকারার ২৪নং আয়াতে সন্দেহকারীদের ভয়ংকর পরিণতির কথা অর্থাৎ (পরকালের জীবনে শাস্তি হবে ভয়াবহ আগুনের। মানুষ আর পাথর হবে সে আগুনের জ্বালানি। সে আগুন কেবল কাফির জাতি এবং কুরআন নিয়ে সন্দেহ পোষণকারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে) বোঝানো হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, আবিদের বক্তব্যগুলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যথার্থ ।