| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘খুব জ্ঞানমার্গের বই…’ হলি ক্রস কলেজ – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

খুব জ্ঞানমার্গের বই লেখেন আরিফ আল মাসুদ। তাকে জ্ঞানের একটি আন্ত ভান্ডার বললে অত্যুক্তি হবে না। ২০১১ সালের বইমেলায় তিনি ‘ঈশ্বরবিষয়ক বিচিন্তা’ নামক বই প্রকাশ করেন। কাটতি ভালো ছিল না। ২০১২ সালের ‘পুরোহিতের ধামে’ বইটিও পাঠক সমাদৃত হয়নি। এদিকে তাঁর বন্ধু কল্লোল রহমানের গীতিকবিতার বই ‘সখা হে এলে না’ বইটি বেশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
'সাহিত্য নামক অমৃতে যে আমাদের অরুচি জন্মেছে' তার জন্য লেখক এ যুগের স্কুল ও তার মাস্টারকে দায়ী করেছেন।
➤ "কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল" কথাগুলো দিয়ে প্রমথ চৌধুরী বোঝাতে চেয়েছেন- সাহিত্যের বাজার আজ এসব জিনিসে ছেয়ে গেছে।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দদান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। তাই সাহিত্য যদি সমাজের মনোরঞ্জন করতে যায় তবে যে তা স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে তার প্রমাণও বাংলাদেশে আজ কম নয়। কারণ পাঠকসমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙে ফেলে। সেটা প্রাচাই হোক আর পাশ্চাত্যই হোক, কাশীরই হোক আর জার্মানিরই হোক- দুদিন ধরে তা কারও মনোরঞ্জন করতে পারে না। তারপরও ওইসব জিনিসে যে আজ সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে সেই কথা বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাগুলো বলেছেন।
সারকথা: 'কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুম্বিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল' এগুলোয় সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে।
➤ কোনোরূপ উচ্চ আশা নিয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে উপস্থিত হলে যে নিম্নশ্রেণিতে পড়ে যেতে হয় 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের এই বিষয়গত দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। শিক্ষা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। আর কাব্যরস লোকে শুধু স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে। শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে কোনোকিছু রচনা করলে তা পাঠক সমাজে সমাদৃত হয় না।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্য সৃষ্টির মূল্য উদ্দেশ্যের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দ দেওয়া। তিনি এও বলেছেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। উদ্দীপকের আরিফ আল মাসুদের জ্ঞানমার্গের বই বইমেলায় ভালো কাটতি হয় না। অথচ তারই বন্ধু কল্লোল রহমানের গীতিকবিতার বই বেশ জনপ্রিয়তা পায়। কারণ আরিফ আল মাসুদ শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে তার বই জনপ্রিয়তা পায়নি। শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করলে তা উৎকৃষ্ট হয় না। এই বিষয়টি প্রবন্ধের অন্যতম বিষয়।
সারকথা: শিক্ষা দান নয় বরং আনন্দদানের উদ্দেশ্যেই সাহিত্য সৃষ্টি করতে হয়। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের এই বিষয়গত দিকটির সাথে উদ্দীপকটির বেশ মিল আছে।
➤ "উদ্দীপকটিতে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সারার্থ প্রতিফলিত হয়েছে।"- কথাটি যথার্থ।
➤ সাহিত্য সৃষ্টি বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ, সেই সৃজনের মূলে কোনো অভাব দূর করার অভিপ্রায় নেই। সেই সৃষ্টির মূল অন্তরাত্মার স্ফূর্তি এবং তার ফল আনন্দ। আনন্দদান ব্যতিরেকে যে শিক্ষা দানের জন্য সাহিত্য সৃষ্টি করেন তাকে নিম্ন শ্রেণিতে পড়ে যেতে হয়।
➤ উদ্দীপকের আরিফ আল মাসুদ মানুষকে শিক্ষা দানের জন্য বই লেখেন বলে তাঁর বই জনপ্রিয়তা পায় না। অথচ কল্লোল রহমান আনন্দদানের জন্য সহজ কথায় গীতিকবিতার বই প্রকাশ করেছেন বলে পাঠক মহলে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও লেখক সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিছক আনন্দদান; শিক্ষা দান করা নয়। উদ্দীপকে এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বিভিন্নভাবে আলোচনা করে বলেছেন- সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়। তারপরও কোনো রূপ উচ্চ আশা নিয়ে সেই ক্ষেত্রে উপস্থিত হলেও নিম্নশ্রেণিতে পড়ে যেতে হবে। প্রাবন্ধিক বাল্মীকির রামায়ণ ও যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের কথা বলেছেন বিষয়টি বোঝানোর জন্য। উদ্দীপকেও এটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়েছে- আনন্দদানই সাহিত্যের উদ্দেশ্য, শিক্ষা দান নয়। শিক্ষা দানের জন্য যদি কেউ সাহিত্য রচনা করে তবে তাকে নিম্নশ্রেণিতে পড়তে হবে- যার প্রমাণ উদ্দীপকে পাওয়া যায়।