| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কি সাধনা প্রসাধনে।…’ a – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কি সাধনা প্রসাধনে। একটানা খেটে টানে সুবঙ্কিম ভুরু,
ঘড়ি ঘড়ি ঘসে মোছে, হয় না পছন্দ কিছু, নতুন উদ্যমে ফের শুরু,
নিপুণ বাবুর্চি রাঁধে, পেছন পেছন ফেরে ছায়া
হয়ে নিত্য এক গণ্ডা বাঁদী দাসী, পুরাতন জী হুজুর আয়া,
বাড়িময় বাড়বাড়ি প্রাচুর্যের, টানাপোড়েনে দেখে নাকো একবারও মুখ
সেটাই রিমির দুঃখ, ভুগছে বেচারী শুধু একটানা সুখের মুখ অসুখ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
ফ্রাঁ হলো ২০০২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে প্রচলিত মুদ্রার নাম।
➤ কঠোর পরিশ্রম করায় মাতিলদার চেহারার লাবণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ফোরস্টিয়ার তাকে চিনতে পারছিল না।
➤ মাতিলদা একসময় অসাধারণ রূপলাবণ্যের অধিকারিণী ছিল। কিন্তু এখন তার সেই লাবণ্য নেই। সংসারের দারিদ্র্যের কারণে এখন সে সাধারণ পরিবারের মেয়ের মতো বাড়ির সব কাজ নিজ হাতে করে। ফলে সে দেখতে অনেকটা গরিব গৃহস্থ ঘরের অমার্জিত মেয়েদের মতো হয়ে যাওয়ায় দশ বছর পর দেখা হওয়া বান্ধবী ফোরস্টিয়ার তাকে চিনতে পারছিল না।
সারকথা: অভাবের সংসারে কঠোর পরিশ্রমে মাতিলদার চেহারার পরিবর্তন হওয়ায় তার বান্ধবী তাকে চিনতে পারছিল না।
➤ জীবনযাপনের ধরন অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জীবনবোধের দিক থেকে উদ্দীপকের রিমির সঙ্গে 'নেকলেস' রচনার মাদাম লোইসেলের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➤ সাধারণভাবে মানুষ যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থাটাকে তার কাছে সুখের মনে হয় না। মানুষ ভাবে সে যে অবস্থায় আছে তাতে সুখ নেই। মানুষ তাই সর্বদা নিজের অবস্থা নিয়ে দুঃখেবাধ করে।
➤ 'নেকলেস' গল্পে দেখা যায়, মাদাম লোইসেলের জন্ম দরিদ্র কেরানি পরিবারে। তার বিয়েও হয়েছিল এক সাধারণ কেরানির সঙ্গে। সেই জীবনে সে সুখী ছিল না। কারণ সে চায় বিলাসপূর্ণ জীবন। সর্বদা সেই জীবনের ভাবনায় সে ভাবিত। অন্যদিকে উদ্দীপকে রিমির জীবনে কোনোকিছুর অভাব নেই। চারদিকে প্রাচুর্য, বিলাসিতা। কিন্তু সংসারের কোনো টানাপড়েন সেখানে নেই, তাই সে সুখী নয়। কেননা দুঃখের স্পর্শেই সে সুখ পেতে চায়। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের রিমির সঙ্গে 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: 'নেকলেস' গল্পে মাদাম লোইসেল যে জীবন প্রত্যাশা করেছে উদ্দীপকের রিমি সেই জীবনে সুখী নয়। এখানেই উভয়ের মধ্যে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
➤ "উদ্দীপকের রিমি এবং 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের দুঃখের কারণ ভিন্ন।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই একে অন্যের থেকে ভিন্ন। আর সে কারণেই তাদের অনুভূতি, উপলব্ধি, সুখ-দুঃখের কারণও ভিন্ন। কেউ প্রাচুর্যের মধ্যে সব সুখ নিহিত বলে মনে করে, আবার কেউ সেই জীবনে সুখের কোনো চিহ্নই খুঁজে পায় না।
➤ 'নেকলেস' গল্পে মাদাম লোইসেল তার সাধারণ জীবনে সুখী নয়। সে সবসময় প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ জীবন প্রতাশা করে। তার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে যোগ ঘটে না। তাই তার দুঃখ আরও বেড়ে যায়। বিলাসী জীবনের প্রত্যাশা তাকে সবসময় তাড়িত করে। অপরদিকে উদ্দীপকের রিমির সব রকম প্রাচুর্য থাকার পরও সে সুখী নয়। সে বিলাসী জীবনযাপন করার পরও অসুখী। সে ভাবে প্রাচুর্যে নয়, সাধারণ জীবনযাপনেই সুখ।
➤ 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের দুঃখের কারণ প্রাচুর্যের অভাব। অন্যদিকে এই প্রাচুর্যই উদ্দীপকের রিমির দুঃখের কারণ। এক্ষেত্রে উভয়ের দুঃখের কারণ সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: মাদাম লোইসেল বিলাসী জীবন না পেয়ে অসুখী। অন্যদিকে রিমি প্রাচুর্যের মধ্যে থেকে অসুখী। তাই তাদের সুখের প্রত্যাশা এবং দুঃখের কারণ ভিন্ন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।