| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘কিছু কিছু মানুষ…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

কিছু কিছু মানুষ তাদের চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যক্ষ উৎস হিসেবে মাজারকে বেছে নেয়। হরেক রকম মানত করে। তেমনি এক অসহায় বৃদ্ধ সালাম মণ্ডল। তার রোগগ্রস্ত ছেলের জন্য মাজারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি মানত করে। এতে ছেলের শারীরিক কোনো উন্নতি ঘটে না। ছেলে তার দিনকে দিন খারাপের দিকেই যায়। তার শেষ সম্বল টাকা-পয়সা যা ছিল তাও সে মাজারে ছুঁড়ে দিয়ে ছেলের জন্য রোগমুক্তির প্রার্থনা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তানু বিবি।
তাহেরের বাবা নিরুদ্দেশ হবার পর তাহেরের মা ঝগড়া না করতে পেরে বিষাদগ্রস্তভাবে শুয়ে থাকত সারাক্ষণ, তখন তার সম্পর্কে উক্তিটি করা হয়েছে। তাহেরের বাবা এবং তাহেরের মা সারাদিন ঝগড়া লেগে থাকত। প্রায়ই তাহেরের বাবা তাকে মারত। তাহেরের মাও সারাক্ষণ তাহেরের বুড়ো বাবার মৃত্যু কামনা করত। কিন্তু তাদের ঝড়গার মাঝেও ছিল প্রগাঢ় ভালোবাসা। তাইতো যখন তাহেরের বাবা নিরুদ্দেশ হয় তখন তার মন বিষাদের ছায়ায় ঢেকে থাকে। যে মানুষটি তার চক্ষুশূল ছিল আজ তার অনুপস্থিতি যেন ভারাক্রান্ত করে রাখে মনকে। তাইতো ঔপন্যাসিক এই উক্তিটি করেছেন।
সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণির অন্ধবিশ্বাস থেকে সৃষ্ট পীর ও মাজার প্রীতির বিষয়টি 'লালসালু' উপন্যাসের মানুষের মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকটিকে তুলে ধরে।
‘লালসালু' উপন্যাসের অন্ত্যজ শ্রেণির গ্রামবাসী অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। এখানকার মানুষ ভাগ্য ও অলৌকিকত্ব গভীরভাবে বিশ্বাস করে। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মজিদ নামক ধর্মব্যবসায়ী নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে। এসব কুসংস্করাচ্ছন্ন মানুষ দৈবশক্তির লীলা দেখে নিদারুণ ভয় পেয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে নয়তো ভক্তিতে আপ্লুত হয়। অন্ধবিশ্বাসের কারণে গ্রামবাসী সহজেই মাজারপ্রেমী হয়ে ওঠে। মাজারকেই তারা তাদের ধ্যান-জ্ঞান মনে করে।
উদ্দীপকের অসহায় বৃদ্ধ সালাম মণ্ডল তার রোগগ্রস্ত ছেলের জন্য মাজারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি মানত করে। কিন্তু ছেলের শারীরিক কোনো উন্নতি ঘটে না। ছেলে তার দিনকে দিন খারাপের দিকেই যায়। তার শেষ সম্বল টাকা-পয়সা যা ছিল তাও সে মাজারে ছুঁড়ে দিয়ে ছেলের জন্য রোগমুক্তির প্রার্থনা করে।
অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষ কর্তৃক ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাসের কারণে পীর ও মাজারের প্রতি তারা আকৃষ্ট। নিজেদের সকল সমস্যা সমাধানে তারা মাজারকেই একমাত্র ভিত্তি বলে মনে করে। আর মাজার পূজার কর্ণধারকে তারা চরম ভয়-ভীতির চোখে দেখে। কেননা, তাদের মন কুসংস্কারাচ্ছন্ন, দুর্বল, সংকীর্ণ ও ভীত। আর তাদের ভয়কে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ ও লোভের বশবর্তী হয়ে একশ্রেণির লোক সেই অন্ধবিশ্বাস টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের ভণ্ডামির আশ্রয় নেয়। 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরবাসীও তেমনি ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। তাদের ধর্মবিশ্বাসও মাজারেই সীমাবদ্ধ।
“উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে মাজারভক্তির একই চিত্র ফুটে ওঠেছে”—মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে ঔপন্যাসিক গ্রামীণ সমাজবাস্তবতার চিত্র উদ্ঘাটনে সমাজ ও ধর্মকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অন্ধকারাচ্ছন্ন মানুষের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন এবং মাজারপ্রীতির নানা দিক উদ্ঘাটন করেছেন। কুসংস্কারের শক্তি আর অন্ধবিশ্বাসের দাপট দেখিয়েছেন। সমাজের উচ্চশ্রেণি কর্তৃক সরল ও 'ধর্মপ্রাণ মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত ও ভীতির মধ্যে রেখে শোষণের প্রক্রিয়া চালু রাখে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন 'লালসালু' উপন্যাসে।
উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের অন্ধ পীরভক্তি ও মাজার ভক্তির দিকটিকে নির্দেশ করে। 'লালসালু' উপন্যাসটি এদেশের মানুষের মাঝে অন্ধ পিরভক্তি ও মাজারভক্তির অন্যতম নিদর্শন। কথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে কেন্দ্র করে পুরো উপন্যাসের ঘটনাবলি আবর্তিত হয়েছে। মাজারের খাদেম হিসেবে মজিদ প্রচলিত পিরপ্রথার অন্যতম বিজ্ঞাপন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। মানুষের ভক্তি-শ্রদ্ধা শুধু নয়, টাকা-পয়সা, ফল- ফসলের ভাগঢ়াও আগ বাড়িয়ে গ্রামের মানুষজনই মজিদকে পৌঁছে দেয়। সকলের দান-দক্ষিণায় মজিদ ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ মানুষের ধর্মানুভূতি ব্যবহার করে ধর্মব্যবসায় ফেঁদে বসে এবং সাফল্যও হাতে হাতে আসে। উদ্দীপকের সালাম মণ্ডলের মত সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতাই ব্যবসায়ের প্রধান পুঁজি। তাই তাদের আচার-আচরণ ও কার্যধারা আলোচনা করে বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।