ক্যালামাইন
ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণের ফলে কোনো মৌলে উৎপন্ন ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আধান সংখ্যাকে ঐ মৌলের জারণ সংখ্যা বলে।
অ্যালকিনের নিম্নতর সদস্যসমূহকে অলিফিন বলা হয়। অ্যালকিনের নিম্নতর সদস্যসমূহ হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তৈলাক্ত পদার্থ উৎপন্ন করে বলে অ্যালকিনকে অলিফিন বলে। প্রোপিন অ্যালকিনের একটি নিম্নতম সদস্য হওয়ায় হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তৈলাক্ত পদার্থ তৈরি করে। এ কারণে প্রোপিনকে অলিফিন বলা হয়।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ করে পাই-
উপরিউক্ত বিক্রিয়ায় উৎপন্ন ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট [Ca(OCl)CI] হলো ব্লিচিং পাউডার। এ ব্লিচিং পাউডার যৌগটি দ্বারা কাপড়ের দাগ উঠানোর কৌশল নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
ব্লিচিং পাউডার বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পানির সাথে বিক্রিয়ায় হাইপোক্লোরাস এসিড উৎপন্ন করে। হাইপোক্লোরাস এসিড তাৎক্ষণিক বিয়োজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এ জায়মান অক্সিজেনের জারণ ক্রিয়ায় কাপড়ের দাগ দূর হয়। জায়মান অক্সিজেন ও HCI এর বিক্রিয়ায় পানি ও সক্রিয় ক্লোরিন উৎপন্ন হয়।
উৎপন্ন ক্লোরিনের জারণ ক্রিয়ায় দাগ দূর হয়।
রঙিন পদার্থ + [O] বর্ণহীন পদার্থ
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করে পাই,
উপরিউক্ত বিক্রিয়ার যৌগ জিংক কার্বনেট হতে বিশুদ্ধ জিংক ধাতু কার্বন বিজারণ ও তড়িৎ বিশ্লেষণ উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করে নিষ্কাশন করা যায়; নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
ZnCO3 উত্তাপে বিয়োজিত হয়ে ZnO এবং উৎপন্ন করে।
উৎপাদ ZnO কে C দ্বারা বিজারিত করে Zn ধাতু নিষ্কাশন করা হয়।
সুতরাং কার্বন বিজারণ পদ্ধতি দ্বারা ক্যালামাইন থেকে Zn ধাতু নিষ্কাশন করা সম্ভব।
সুতরাং উৎপন্ন জিংক অক্সাইডের সাথে কোক চূর্ণ (কার্বন) মিশ্রিত করে একমুখ বন্ধ সিলিন্ডার আকৃতির রিটর্টে নেওয়া হয়। এ রিটর্টটি অগ্নিসহ মাটির তৈরি। এর খোলামুখে মাটির তৈরি গ্রাহক নল জুড়ে দেওয়া হয়। এ নলটি জিংক বাষ্পের জন্য কনডেনসার বা শীতকরূপে কাজ করে। শীতকের শেষ মাথায় লোহার তৈরি একটি ক্ষুদ্রাকার শীতক থাকে, যাকে প্রোলং (prolong) বা প্রবর্ধন বলে। প্রথম শীতকে যে জিংক বাষ্প ঘনীভূত হয় না, তাকে সঞ্চয় করাই এ প্রোলং-এর কাজ।
জিংক অক্সাইড ও কোকের মিশ্রণকে গ্যাসের সাহায্যে প্রায় ২৪ ঘণ্টা উত্তপ্ত করা হয়। এ সময় জিংক অক্সাইড বিজারিত হয়ে জিংকে রূপান্তরিত হয় এবং কার্বন জারিত হয়ে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন করে, যা কনডেনসারের মুখে জ্বলতে থাকে।
উৎপাদিত জিংক রিটর্ট হতে বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে এবং এর বড় অংশ কনডেনসারে ঠান্ডা হয়ে তরল জিংক হিসেবে জমা হয়। এভাবে উৎপন্ন জিংক 97-98% বিশুদ্ধ হয়। প্রয়োজনবোধে তড়িৎ বিশোধনের সাহায্যে একে আরো বিশুদ্ধ করা হয়।
এভাবে ক্যাথোডে 99.98% বিশুদ্ধ জিংক (Zn) জমা হয়।
অতএব ক্যালামাইন হতে উৎপন্ন ZnO হতে জিংক ধাতু নিষ্কাশনে কার্বন বিজারণ ও তড়িৎ বিশ্লেষণ উভয় প্রক্রিয়াই আবশ্যক।
