| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – জলবায়ুর উপাদান ও নিরামক, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
কোনো স্থানের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ যে ভৌত রাশির সাহায্যে নির্দেশ করে, তাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
নিরক্ষরেখার উপর সূর্যরশ্মি সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে জলীয়বাষ্প বেশি উৎপাদন হয়। ফলে ঐ অঞ্চলে নিম্নচাপ বিরাজ করে।
আমরা জানি, কোনো স্থানের জলীয়বাষ্প হালকা হয়ে বায়ুমণ্ডলের উপর দিকে উত্থিত হয় ফলে সে স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ বিরাজ করে। নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে সে অঞ্চলে সূর্যের তাপ বেশি সময় ধরে ক্রিয়াশীল থাকে। এর ফলে সেখানে জলীয়বাষ্পের পরিমাণও বেশি হয়। উক্ত জলীয়বাষ্প হালকা বলে বায়ুমণ্ডলের উপরের দিকে উত্থিত হয়। তখন ঐ অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠে বায়ুর নিম্নচাপ বিরাজ করে।
চিত্র-২ এ ইঙ্গিতকৃত বৃষ্টিপাত হলো শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Relief Rains)। নিম্নে উক্ত বৃষ্টিপাত সংঘটনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
জলীয়বাষ্প পূর্ণ বায়ু ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার সময় গতিপথে পর্বতে বাধা পেলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে থাকে এবং প্রসারিত ও শীতল হয়। পর্বতের উচ্চ অংশের শীতল বায়ু ও তুষারের সংস্পর্শে এবং ঊর্ধ্বে উঠার ফলে এ জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত পার্শ্বে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। ভূমির বন্ধুরতার জন্য এরূপ বৃষ্টিপাত হয় বলে একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Relief Rains) বলে। পর্বতের প্রতিবাদ পার্শ্বে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও অনুবাত পার্শ্বে জলীয়বাষ্প না থাকায় বৃষ্টি হয় না। সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চল এবং নদী সংলগ্ন হলে এ ধরনের বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
চিত্র-১ এ উল্লিখিত 'ক' দ্বারা উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং 'খ' দ্বারা উত্তর-পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ুকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত দুটি বায়ুপ্রবাহের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই রয়েছে। নিম্নে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
'ক' উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু কর্কটীয় উচ্চচাপ ও শান্তবলয় হতে সারা বছর নিয়মিতভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। এ বায়ুকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে। উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু নিরক্ষীয় প্রদেশের দিকে আসবার সময় পৃথিবীর আবর্তনের জন্য ফেরেলের সূত্র অনুসারে বাম দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ুতে পরিণত হয়।
আয়ন বায়ু উচ্চ অক্ষাংশ (শীতল স্থান) হতে নিম্ন অক্ষাংশে (উষ্ণতর স্থান) প্রবাহিত হয় বলে এদের জলীয়বাষ্প ধারণ করবার শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই এ বায়ুতে বৃষ্টিপাত হয় না।
'খ' উত্তর-পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ু মকরীয় উচ্চচাপ শান্তবলয় হতে একটি বায়ুপ্রবাহ কুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধের উপর দিয়ে মকরক্রান্তির উচ্চচাপ বলয় হতে কুমেরু বৃত্তের নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় পৃথিবীর আবর্তনের ফলে ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী এটি বাম দিকে বেঁকে উত্তর-পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ুপ্রবাহে পরিণত হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, দুটি বায়ুপ্রবাহ দুটি অঞ্চলে হলেও দুটিই উচ্চচাপ ও শান্ত বলয় হতে নিম্নচাপের দিকে যায়। আবার দুটি বায়ুপ্রবাহ ফেরেলের সূত্র অনুসারে প্রবাহিত হয়। তথাপিও আয়ন বায়ু যেরূপ নিয়ত প্রবহমান কিন্তু প্রত্যয়ন বায়ু সেরূপ নয়। নানারূপ স্থানীয় কারণে বায়ুপ্রবাহের সাময়িক পরিবর্তন ঘটে। তাই বায়ু দুটির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই রয়েছে বলে মনে করি।'