| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
ধর্মপালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
মূল্যবোধ হলো এমনসব আচার-আচরণ ও কর্মপ্রক্রিয়ার সমষ্টি যা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে। সততা, ন্যায় পরায়ণতা, শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা, সৌজন্য, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মানবিক গুণাবলি হচ্ছে মূল্যবোধের উপাদান। মূল্যবোধ মানুষকে তার কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ দিক অনুধাবন করতে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের? চিহ্নিত বিষয়টি হলো আইন।
আইন, স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনটি ধারণা এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। আইন স্বাধীনতার পূর্বশর্ত। আইনহীন সমাজে স্বাধীনতা নিরর্থক। আবার সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থবহ হয় না। ফলে তিনটির মধ্যে এক ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকেরে ছকে স্বাধীনতা ও সাম্যকে নির্দেশ করা হয়েছে। সুতরাং (?) চিহ্নিত বিষয়টি দ্বারা আইনকে নির্দেশ করা হচ্ছে এটা সহজেই অনুমেয়। কেননা, আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইনের অনুপস্থিতিতে স্বাধীনতা থাকে না, আইন আবার সাম্যকেও অর্থবহ করে তোলে। রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে সমাজ থেকে অসমতা দূর করা যায়। সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অসমতা ও বৈষম্য দূর করতে বা একে সহনীয় পর্যায়ে আনয়ন করতে আইনের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রেই আইনের মাধ্যমে সাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে এবং হচ্ছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের (?) চিহ্নিত বিষয়টি তথা আইন স্বাধীনতার প্রধান রক্ষাকবচ।
সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার উপায় হিসেবে আইন তৈরি হয়ে থাকে। আর তাই আইনকে আচার-আচরণের নিয়ন্ত্রক বলা হয়। দেশে প্রচলিত আইন আছে বিধায় আমরা স্বাধীনভাবে যা ইচ্ছা তা করতে পারি না। কারণ আইন প্রণীত হয় নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার জন্য, অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে মানুষ যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কারণ আইন স্বাধীনতার রক্ষক। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা উপভোগ করা যায়। সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে শাসনতান্ত্রিক আইন রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে বলে সম্ভাব্য যেকোনো হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। ফলে সরকার বা অন্য কেউ নাগরিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে না। জন লক যথার্থই বলেছেন, "যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত বিষয়টি দ্বারা আইনের প্রতিই ইঙ্গিত করে। আর এ আইন নাগরিক স্বাধীনতাকে রক্ষা করে। কেননা আইনের উপস্থিতি ছাড়া রাষ্ট্রে যদি শুধু ক্ষমতাসীনদের শাসন প্রতিষ্ঠা পেত তবে তারা যা খুশি ইচ্ছা করতে পারত। অপেক্ষাকৃত দুর্বলরা তাদের স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হতো। কিন্তু দেশে প্রচলিত আইন থাকায় কোনো ব্যক্তি কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সকলেই সকলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। এ কারণে বলা যায়, আইনের উপস্থিতি সর্বোচ্চ নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে থাকে।