| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৪ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে DNA অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষে, উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে, প্রাণী থেকে উদ্ভিদে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের জীবকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism)।
রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction enzyme):
যে এনজাইম প্রয়োগ করে DNA অণুর সুনির্দিষ্ট সিকোয়েন্স-এর একটি অংশ কেটে নেয়া যায় ঐ এনজাইমকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম বলে। এদেরকে রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ (endonucleases) ও বলা হয়।
এরা DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সিকোয়েন্স, যাকে রেস্ট্রিকশন সাইট (restriction site বা recognition site) বলা হয়, তা কেটে দিতে সক্ষম। এ ধরনের এনজাইম প্রাকৃতিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া কোষে বিদ্যমান থাকে। এদের কাজ হলো ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণকারী ডাইরাল DNA কেটে দেয়া। স্বাভাবিকভাবে এরা ভাইরাল DNA কেটে থাকে, তবে যে কোনো উৎস থেকে পাওয়া যে কোনো DNA সূত্রের নিউক্লিওটাইডের ঐ একই সিকোয়েন্স (রেস্ট্রিকশন সাইট) সমান দক্ষতার সাথে কাটতে সক্ষম। প্রতিটি ব্যাকটেরিয়াম কোষ কমপক্ষে একটি রেস্ট্রিকশন এনজাইম উৎপন্ন করে থাকে।
উদ্দীপকের B হলো প্লাসমিড। নিচে এ নিয়ে বিস্তারিত দেয়া হল:
প্লাসমিড (Plasmid):
ব্যাক্টেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে মূল ক্রোমোসোম ছাড়াও যে বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক DNA অণু থাকে তাকে প্লাসমিড বলে। Laderberg (1952) E. coli ব্যাকটেরিয়া কোষে সর্বপ্রথম প্লাসমিডের সন্ধান পান। প্লাসমিডের DNA অণু স্বাধীনভাবে অনুলিপন (replicate) করতে পারে। মূল ক্রোমোসোমের বাইরে একটি অতিরিক্ত ও ক্ষুদ্রাকার DNA (ক্রোমোসোম) হিসেবে অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াতে প্লাসমিড অবস্থিত। এদের সংখ্যা কোষ প্রতি ১-১০০০ পর্যন্ত হতে পারে।
প্লাসমিডের প্রকারভেদ:
প্লাসমিড প্রধানত তিন প্রকার। যথা-
(i) F এবং F’প্লাসমিড:
এসব প্লাসমিড একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে জন্য ব্যাকটেরিয়াতে জেনেটিক উপাদান স্থানান্তর করার জন্য দায়ী। F(fertility) ও F-প্লাসমিড ব্যাকটেরিয়া দেহে pili তৈরি করে যা তাদের যৌনজননে সাহায্য করে।
(ii) R-প্লাসমিড:
এসব প্লাসমিডে অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষমতাসম্পন্ন জিন থাকে। এ-প্লাসমিড ৬টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন।
(iii) কোল প্লাসমিড:
যে সব প্লাসমিডে কোলিসিন (Colicin) উৎপাদনকারী জিন থাকে তাদেরকে কোল প্লাসমিড বলে। কোলিসিন এক ধরনের প্রোটিন যা সংবেদনশীল E. coli কোষকে ধ্বংস করতে পারে। কোল প্লাসমিডের সমতুল্য আরেক ধরনের প্লাসমিড আছে যাতে ভিব্রিওসিন (Vibriocm) উৎপাদনকারী জিন থাকে। ভিব্রিওসিন সংবেদনশীল Vibrio cholerae কোষকে ধ্বংস করে দেয়।
উদ্দীপকের B হলো প্লাসমিড। এর বৈশিষ্ট ও ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো :
প্লাসমিড (Plasmid):
ব্যাক্টেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে মূল ক্রোমোসোম ছাড়াও যে বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক DNA অণু থাকে তাকে প্লাসমিড বলে।
প্লাসমিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য :
১। প্লাসমিড বৃত্তাকার (চক্রাকার) দ্বি-সূত্রক DNA অণু।
২। এর আণবিক ভর প্রায় 10º 200 × 10º dalton.
৩। প্লাসমিড অল্পসংখ্যক জিন ধারণ করে থাকে।
৪। রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা আদর্শ প্লাসমিডের নির্দিষ্ট স্থানগুলো কেটে ফেলা যায়।
৫। এরা কনজুগেশনের মাধ্যমে সহজেই অন্য ব্যাকটেরিয়ায় সঞ্চালিত হতে পারে।
৬। কোনো কোনো প্লাসমিডের জিন বিশেষ ধরনের রাসায়নিক বস্তু সংশ্লেষণ করতে পারে।
৭। প্লাসমিডের DNA অণু স্বাধীনভাব অনুলিপন (replicate) করতে পারে।
প্লাসমিডের ব্যবহার:
আণবিক বংশগতিবিদ্যার (molecular genetics) গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্লাসমিড ব্যাপকভাবে লহার করা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জিন ক্লোনিং ইত্যাদি কজে প্লাসমিড অত্যন্ত উপযোগী বাহক (vector) হিসেবে এজ করে। প্লাসমিড DNA ব্যবহার করে আধুনিক জীবপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। যেমন,
মানুষের ইনসুলিন জিন ক্লোনিং, রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ভিদ উৎপাদন, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।