A. Nayanㅤ
A. Nayan
15 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘ক্ষমতা ও স্বার্থের…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ সাধারণ📚 বই বাংলা📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ নাটক ও উপন্যাস🧩 অধ্যায় ১ম অধ্যায় — সিরাজউদ্দৌলা🔢 সৃজনশীল নং ৫৮🏫 বোর্ড দিনাজপুর বোর্ড📅 সাল ২০২৪⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে এই পৃথিবীতে বহু নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু, ইন্দিরা গান্ধী এরকম বহু নাম ইতিহাসের পাতায় করুণ অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এইসব মহান নেতার নিকটতম ব্যক্তিবর্গই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। কখনো বিদেশি চক্রান্ত, কখনো দেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এই বরেণ্য ব্যক্তিদেরকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ১

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমিনা বেগম।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

"ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।"- উমিচাঁদ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ইংরেজদের পালানো প্রসঙ্গে এই কথাটি হলওয়েলকে বলেছিলেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে জেনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে ইংরেজ সেনারা পরাজিত হয় এবং গভর্নর রজার ড্রেক, ক্যাপ্টেন ক্লেটনসহ অনেক ইংরেজ পালিয়ে যায়। অথচ ব্রিটিশরা নিজেদের অত্যন্ত বীর বলে অহংকার বোধ করে। উমিচাঁদ সেই কথা মনে করে বিদ্রুপের স্বরে বলেছেন- "ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।"

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্য রয়েছে।

বিশ্বাসঘাতকরা দেশ ও জাতির শত্রু। আত্মস্বার্থ ও ক্ষমতার লোভে
একশ্রেণির লোক স্বদেশ ও স্বজাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এদের কারণে দেশপ্রেমিক শাসক ও সাহসী মানুষও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন না। তাঁদের জীবনে নির্মম পরিণতি নেমে আসে হীন স্বার্থপরতার জন্য।

উদ্দীপকে ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে পৃথিবীতে বহু নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের কাছের মানুষরাই জড়িত ছিল। তারা নিজেদের স্বার্থে ইতিহাসের পাতায় করুণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এমন মহান নেতাদের মধ্যে আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মহান বাক্তিদের নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে নিকটতম লোকদের জড়িত থাকার দিক থেকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। ক্ষমতা না পাওয়ার কারণে ঘসেটি বেগম সিরাজের নবাব হওয়াটাকেই সবচেয়ে বড় ক্ষতি মনে করতেন। তাই তিনি প্রধান রাজ-অমাত্য ও সিপাহসালার মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করেন। নবাব সবকিছু বুঝতে পেরেও কোনো প্রতিকার করতে পারেননি। সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান করে দেশের স্বার্থে তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে ইংরেজদের মোকাবিলা করার আহ্বান করেন। মিরজাফর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে শপথ নিয়েও পলাশির যুদ্ধে নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ফলে নবাব পরাজিত ও বন্দি হন। পরে ক্লাইভের ইচ্ছায় মিরজাফরের জ্যেষ্ঠ পুত্র মিরনের সহযোগিতায় টাকার লোভে মোহাম্মদি বেগ হতভাগ্য নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্য রয়েছে।'

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা যায়।
আমাদের সমাজে কিছু অসৎ ব্যক্তি আছে যাদের কাছে আপন স্বার্থের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই। অর্থ ও ক্ষমতার মোহে পড়ে তারা হিতাহিত জ্ঞান ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে। আত্মীয়, পরিজন, রক্তের সম্পর্ক, বিশ্বাস সবকিছু ভুলে গিয়ে তারা যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ও স্বার্থ হাসিল করতে চায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে শুরু থেকে নবাব সিরাজের প্রধান অমাত্যবর্গ ও নিকট আত্মীয়স্বজনরা ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাবকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রধান কারণ নবাবকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল। নবাবের খালা ঘসেটি বেগমের ক্ষমতার লোভ নবাব সিরাজের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার অন্যতম কারণ। সেই সঙ্গে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা নবাবকে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত করে করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের করুণ পরিণতিরই শিকার হয়েছেন উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ মহান ব্যক্তিবর্গ। মিরজাফরের নবাব হওয়ার লোভ তাকে ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথের কথা ম্লান করে দিয়েছিল। মিরজাফর নবাব হলে ঘসেটি বেগম ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ যতটা পাবেন তার চেয়ে বহুগুণে স্বার্থ জড়িত ছিল ইংরেজদের। ক্লাইভের হাত ধরে মিরজাফর নবাবের আসনে বসেছিলেন বাংলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে নয়, ইংরেজদের ভাগ্য উন্নয়নে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পরও চেষ্টা করেছিলেন নতুন করে সেনা সংগ্রহ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করতে। তখনও তাঁর নিকট আত্মীয়রা সাহায্যের কথা বলে তাকে ছেড়ে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেছে। বরং স্বার্থের দ্বন্দ্বে নবাব সিরাজকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্দীপকে যে ধরনের বিদেশি চক্রান্তের কথা বলা হয়েছে তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই মহান ব্যক্তিদের করুণ পরিণতির মূলে ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘ক্ষমতা ও স্বার্থের…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)”